এক অপ্রতিরোধ্য নারীর গল্প।

নারীকথন | প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২০ ২২:৪৬; আপডেট: ৭ অক্টোবর ২০২০ ২২:৪৬

ছবিঃ ইন্টারনেট

রুথ বেডার গিন্সবার্গ ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ২য় নারী বিচারক। ১৯৩৩ সালের ১৫ই মার্চ নিউইয়র্কের ব্রকলিনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং গত ১৮ই সেপ্টেম্বর ৮৭ বছর বয়সে প্যানক্রাইটিস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করেন।গিন্সবার্গের মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন “তিনি একজন বিস্ময়কর নারী ছিলেন”। মিনেসোটায় এক প্রচারাভিযানের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “বিচারপতি গিন্সবার্গ দেখিয়েছেন যে অন্যভাবে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে দ্বিমত পোষণ করতে পারে”। ডেমোক্রেটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জো বাইডেন বলেন, “সবার জন্য নাগরিক অধিকার, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমত পোষনের সুযোগের ক্ষেত্রে গিন্সবার্গ প্রজন্মের জন্য আইনের ভিত্তি তৈরি করে গেছেন”।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, “আমাদের জাতি ঐতিহাসিক মর্যাদার একজন বিচারককে হারিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে আমরা একজন প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়েছি”। সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল এক বিবৃতিতে বলেন, “বিচারপতি গিন্সবার্গ আইনি পেশা এবং সুপ্রিম কোর্টে তার ২৭ বছরের কাজের জন্য সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত থেকে সেবা করে গেছেন। সিনেট ডেমোক্রেটিক লিডার চাক শুমার বলেন, “নতুন প্রেসিডেন্ট না হওয়া পর্যন্ত গিন্সবারগের এই শূন্যপদ পূরণ করা উচিত নয়”। সকল স্তরের মানুষের কাছে এতখানি সম্মানিত হওয়ার কারণটা আমেরিকা সহ সারাবিশ্বের নারীদের জানা উচিত। আজকের নারীরা যে স্বেচ্ছায় গর্ভপাতের অধিকার পেয়েছে, নিজেদের স্বতন্ত্র ব্যাংক এ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে পারে পুরুষের কো সিগনেচার ছড়াই এই সকল আইন পাশের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন গিন্সবার্গ।

১৯৯৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন দ্বারা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। কিন্তু ঠিক ৩৩ বছর আগে ১৯৬০ সালে এই গিন্সবার্গকেই সুপ্রিম কোর্টের ক্লার্কের পদ থেকে রিজেক্ট করা হয় শুধুমাত্র নারী হওয়ার কারণে। কিন্তু তাতে তিনি দমে যান নি। তিনি বুঝেছিলেন জীবনের সকল ক্ষেত্রে নারীরা এই বৈষম্যের শিকার। তাই ১৯৭২ সালে গিন্সবার্গ নারী অধিকার প্রকল্প প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭০-এর দশকে, যখন তিনি নারী অধিকার প্রকল্পের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন যাতে সংবিধান লিঙ্গ বৈষম্য নিষিদ্ধ করে”। সুপ্রিম কোর্টে থাকাকালীন সময়ে, তিনি পরিচিত ছিলেন বেঞ্চের উদারনৈতিক স্পষ্ট কণ্ঠস্বর হিসাবে। গিন্সবার্গ বিশ্বাস করতেন যে কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতিবন্ধকতা যুক্তরাষ্ট্রে অদৃশ্য ভাবে রয়েছে। তিনি বলেন এমন অনেক কিছু রয়েছে যা আদালত আদেশ দিতে পারে না; আমেরিকান সমাজের জন্য এই ধারণা ষ্পষ্ট এবং উন্মুক্ত হতে হবে যাতে নারী এবং পুরুষদের, কাজ এবং পরিবারের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকে।

২০১৫ সালে নিউইয়র্ক টাইমস এর এক সাক্ষাৎকারে তিনি নারীদের জন্য কিছু উপদেশ মূলক কথা বলেন-

১. নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীকে কখনই ছোট মনে করো না।

২. শেখার কোনও বয়স নেই।তোমরা আমার মতামত,বক্তব্য যে কোনো কিছু থেকেই শিক্ষা নিতে পারো।এবং কখনোই কোনো মানুষকে তার চেহারা,স্কিন কালার,পোশাক এমনকি তাদের লিঙ্গ দ্বারা বিচার করো না।

৩. তুমি যে আদর্শ ধারণ করো কিংবা যে বস্তু অথবা ব্যাক্তিকে ভালোবাসো তার জন্য লড়াই থামিয়ে দিও না।

৪. একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করো এবং সতর্কতার সাথে তার বাস্তবায়ন করো।

এছাড়াও ২০১৬ সালে তার আরেকটি সাক্ষাৎ কারে বলেছেন- আমি খুবই আশাবাদী। আমি আপ্লুত যে বর্তমান ল’ স্টুডেন্ট দের মধ্যে প্রায় অর্ধেক নারী এবং তিন ভাগের এক ভাগ ফেডারেল জাজই হচ্ছে নারী তন্মধ্যে ৩ জন সুপ্রিম কোর্টের বিচারক। ইউনাইটেড স্টেটস এর ৩০% নারী ল’ শিক্ষার্থী এখন ডিন’স এ্যাওয়ার্ড পায়। আমি আমার এই দীর্ঘ জীবন ধরে এই পরিবর্তন টাই চেয়েছিলাম। আশা করেছিলাম কোনো অবস্থাতেই মেয়েরা যেন পিছিয়ে না থাকে। অর্থ্যাৎ, যে সমাজ, যে নীতি বহির্ভূত নিয়ম পরিবর্তনের চেষ্টা আমরা করি তার পথে কখনওই সহজ নয়। এটি সকল সময়,সকল সমাজ এমনকি সকল রাষ্ট্রের জন্যই প্রযোজ্য।

লেখাঃ মাকসুদা আক্তার তমা, শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top