নারী উদ্যোক্তাদের প্রতিবন্ধকতা।

অনুবাদঃ মাকসুদা আকতার তমা, ঢাবি। | প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২০ ১৮:২৯; আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২০ ১৮:২৯

ছবিঃ সংগৃহীত

করোনা মহামারীর এই সময়টা অন্য সকলের মতো কর্মজীবী নারীদের জীবনেও ডেকে এনেছে এক বিশাল দীর্ঘশ্বাসের ছবি।অনেকেরই বেতন কমে গেছে, কেউবা চাকরি হারিয়েছে। ক্ষতি হয়েছে নতুন নারী উদ্যোক্তাদের। ইউএস চেম্বার অব কমার্স এর মতে, কোভিড-১৯ এর কারণে পুরুষদের তুলনায় নারীদের ছোট ছোট ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ডেটা সংস্থা পিচ বুকের গবেষণা অনুসারে, নারীদের স্টার্ট আপ বিজনেসগুলো অনেক ধীর গতির হয়ে গেছে এবং ইতোমধ্যে তাতে ফান্ডিং ব্যবস্থাও ভঙ্গুর প্রায়।

প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলো বার্ষিক মূলধন বিনিয়োগের ৩% এরও কম মূলধন পান। তার উপর কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী হলে ওইটুকু মূলধন পাওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। আমি গত চার বছর উদ্যোক্তাদের লিঙ্গ ব্যবধান নিয়ে গবেষণা করে কাটিয়েছি - এই সত্য অনুধাবন করেছি যে নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম সংস্থার মালিকানাধীন, এবং সামগ্রিকভাবে এই ব্যবসায়গুলিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কম স্টার্ট-আপ মূলধনের অ্যাক্সেস রয়েছে, অনেক কম রাজস্ব আয় হয়, এবং অনেক কম লোককে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই জেন্ডার ব্যবধানটি আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে, যার ফলে কম চাকরি হয় এবং নতুনত্বও আসে না। আমি শতাধিক মহিলা এবং ননবাইনারি উদ্যোক্তাদের সাক্ষাত্কার নিয়েছি, তাদের অর্ধেকেরও বেশি BIPOC, একাধিক শিল্পে এবং সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে । তারা আমাকে বলেছিল যে, যদি আরও বেশি পরামর্শদাতা এবং রোল মডেলদের উন্নততর অর্থের সুযোগ থাকে তবে তা তাদের ব্যাবসাকে দাড় করাতে অনেক সহায়তা করবে।

শুধু তাই নয়, আরও বেশি নারী উদ্যোক্তারাও আগ্রহী হবে। কোচিং সরবরাহকারী লার্নলাক্সের প্রধান নির্বাহী(CEO) রেবেকা লাইবম্যান বলেন, "কখনও কেউ যদি একজন পুরুষ কোফাউন্ডার পান তবে দেখবেন যে মানুষ আপনার সাথে অন্যরকম আচরণ করে কেবলমাত্র আপনি একজন নারী বলে"। তিনি এবং তার ভাই(১৯) মাইকেল ২০১৫ সালে মাত্র ২২ বছর বয়সে "বোস্টন ভিত্তিক একটি সংস্থার" প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি বলেন, "যখন আমি কারও সাথে দেখা করি, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধরেই নেয় যে আমি সেক্রেটারি"। "আপনি যদি কোনও ছেলের সাথে সাক্ষাত করেন তবে আপনি ধরেই নেন যে তিনি প্রতিষ্ঠাতা, কিন্তু আপনি যদি কোনও মেয়ের সাথে দেখা করেন তবে আপনার প্রথম প্রশ্নই হয়, 'ওহ, আপনি কতদিন এই সংস্থার সাথে ছিলেন?' এবং খুব নম্রভাবে তাদেরকে উত্তর দেই, 'এটি আমিই শুরু করেছি ”। অর্থ্যাৎ, প্রতিটি পদক্ষেপে নারীকে যোগ্যতার পাশাপাশি ধৈর্যের পরীক্ষাও দিতে হয়।সহ্য করতে হয় চারপাশের মিসোজিনিস্ট মন্তব্যকে।এতো কিছু করেও আবার কখনও বা নিতে হয় "এক্সট্রা খাতিরের তকমা"। - ২৭ অক্টোবর, ২০২০ সালে Ms. ম্যাগাজিনে প্রকাশিত Susanne Althoff এর লেখার অনুবাদ।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top