আমার উদ্যোগ আমার পরিচয় বহন করে।

নারীকথন | প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২০ ২২:১০; আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২০ ২০:৪৮

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর, সবাই যখন বাস্তবতার পিছনে ছুটে চাকরির পড়াশোনার জন্য নিজেকে তৈরী করছে তখন আমার চিন্তা ভাবনা ছিল একটু ভিন্ন রকম।। আমি কানিজ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছি। বাবার চাকরির সুবাদে সব সময় একটি চলমান জীবন পার করলেও এখন ঢাকা নারায়ণগঞ্জ নিবাসী। ছোট থেকেই স্বাধীনভাবে থাকতে পছন্দ করি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষের দিকে সকলে যখন কোচিং প্রাইভেট এর চিন্তায় মগ্ন থাকত তখন আমার চিন্তা ছিল ভিন্ন রকম কিছু শুরু করার।

ছোট থেকেই মায়ের শাড়ি গুলোর উপরে আমার বেশ নজর থাকতো। সবসময় নতুন নতুন শাড়ি পরতে ভালবাসতাম। নরম সুতি শাড়ি আমার পছন্দের তালিকায় সবসময়ই প্রথমের দিকে। নিজের জন্য একটি মস্ত বড় শাড়ির ফ্যাক্টরি তৈরি করার প্রবল ইচ্ছা থেকে আমার ‘সহজিয়া-Shohojiaa’ র যাত্রা শুরু। শাড়ির প্রতি দুর্বলতা টাকে নিজের শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়ে খুব অল্প কিছু টাকা দিয়ে টাঙ্গাইল থেকে শাড়ি নিয়ে এসেছিলাম প্রথমে আর এই শাড়ির মাধ্যমে সহজিয়ার পদযাত্রা আরম্ভ করি নভেম্বর, 2019 সালে।

নিজের ভালোবাসা নিয়ে কাজ শুরু করেছি বলেই হয়তো ভবিষ্যতে নিজের জন্য একটি ভালো জায়গা তৈরি করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি। সহজিয়াতে নিজস্ব ডিজাইন করা ড্রেস, শাড়ি, পাঞ্জাবি, হ্যান্ড মেড জুয়েলারি এবং তাঁতের শাড়ি নিয়ে কাজ করছি, যেগুলোর সবগুলোই দেশীয় ঘরানার। তাঁতের শাড়ি আমার প্রথম পছন্দ তাই আমাদের দেশের এই ঐতিহ্য- তাঁতের শাড়ি কে আরো অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমার এই ভিন্নধর্মী কাজে আমি আমার পরিবার এবং বন্ধুদের সম্পূর্ণ সাপোর্ট পেয়েছি যা শুনে হয়তো বা অনেকে অবাক হয়ে যায়। কারণ আমাদের সমাজের মানুষেরা নারীদের ব্যবসা করা এখনো মেনে নিতে পারেনি। সমাজে গুটিকয়েক মেয়েরাই উদ্যোক্তা হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। নিজের জন্য নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তির অনুভূতি আসে। আমার উদ্যোগ আমার পরিচয় বহন করে। আর এই পরিচয় কে আমি আরো দৃঢ় ভাবে গড়ে তুলতে চাই।

সহজিয়া’র সকল দায়িত্ব আমার নিজেরই। আমার পার্টনার ইসতিয়াক আমাকে সর্বোচ্চ সাহায্য করে সোর্সিং এবং ফটো শুটিং এর জন্য। আমার সকল কাজেই তার সুচিন্তা আমাকে অনেক বেশি মানসিক সাপোর্ট দিয়ে থাকে। এছাড়া কাস্টমার হ্যান্ডেলিং ডেলিভারি সম্পর্কিত সকল কাজ আমার একাই সামলাতে হয়।

অনলাইন বিজনেস এর জন্য ধৈর্য ও সহনশীলতার প্রয়োজন অনেক বেশি।। কারন এত অল্প কয় দিনে কোন প্লাটফর্ম দারাতে পারে না।। এর জন্য আমাকে আরো পরিশ্রম করতে হবে ধৈর্য সহকারে।। একটি সফল অনলাইন বিজনেস দ্বারাতে ৩ বা ৪ বছর তো লেগেই যায়।। অনলাইন বিজনেস এর জন্য আরো অনেক কিছুই নতুন করে শিখতে হয়েছে।। ডিজিটাল মার্কেটিং, পেজ ডেভলোপ করা, ফটোশুটিং, টার্গেট কাস্টার নির্ধারন করা, একটি বিশ্বস্ত সোর্সিং ফিক্সড করা ইত্যাদি সম্পর্কে ধিরে ধিরেই নিজের জ্ঞান কে আরো বাড়িয়ে তুলেছি।।

এত অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছি এবং একটি সফল মেলা করেছি আমি আমার উদ্যোগ সহজিয়ার সাথে। করোনাকালীন সময়ে আমার সহজিয়ার কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল কিন্তু এখন আবার পুরোদমে কাজ শুরু করেছি। ইনশাল্লাহ সময়ের সাথে এই ঘাটতি পূরণ করতে পারব। আমি নিজের ভিতরে আত্মবিশ্বাসের পরিবর্তন দেখেছি যেখানে কোন কিছু শুরু করার সময় ভাবতাম আমার দ্বারা সম্ভব না , আমি হয়তো পারবো না কিন্তু সেখানে এখন মনে হয় শুরু করি , আমার দ্বারা সম্ভব। আর এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই সহজিয়া প্রোডাকশন কে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সকলের কাছে সহজিয়া-Shohojiaa নাম টি সুপরিচিত হবে এটাই আমার স্বপ্ন।

লেখাঃ কানিজ ফাতেমা নিশিতারাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top