জি. এস. লক্ষ্মী, ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভারতীয় ক্রিকেটার।

ফারজানা নিপা, ঢাবি। | প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২০ ১৬:১৩; আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২০ ১৬:১৪

ছবিঃ জি. এস. লক্ষ্মী
গত কয়েক বছরে ভারতীয় ক্রিকেট শিবিরে কয়েকটি অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে। এরই ফলশ্রুতিতে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট বিশ্বের মানচিত্রে একটা আলাদা জায়গা দখল করে নিয়েছে। এবার এক মহিলা ক্রিকেটের ময়দানে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। প্রথম মহিলা আম্পায়ার হিসেবে এবার আইসিসি’র ইভেন্টে দেখা যাবে ভারতের প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটার জিএস লক্ষ্মীকে। ২০০৮-০৯ সালে প্রথমবার ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন লক্ষ্মী। ৫১ বছর বয়সী লক্ষ্মী ইতিমধ্যে মহিলাদের ৩টি ওয়ানডে ও ৭টি আন্তর্জাতিক টি-২০ এবং পুরুষদের ১৬টি আন্তর্জাতিক টি-২০ ম্যাচে ম্যাচ আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৯সালের অক্টোবরে প্রথমবার পুরুষদের টি-২০ ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
 
কয়েক মাস আগেই প্রথম মহিলা হিসেবে আইসিসি’র ম্যাচ অফিসিয়ালদের এলিট প্যানালে জায়গা করে নিয়েছিলেন জিএস লক্ষ্মী। ১৯৮৬ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটে চুটিয়ে খেলেছেন এই অল রাউন্ডার। ২০১৯ সালেই আইসিসি খেলার পাশাপাশি মহিলাদের আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারি পদেও নিয়োগ শুরু করে। সেখানেই প্রথম সুযোগ পান লক্ষ্মী। তবে জিএস লক্ষ্মীর স্বপ্ন মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলানো। এবছর অস্ট্রেলিয়া টি২০ বিশ্বকাপের জন্য অক্টোবরের ১৮ তারিখ থেকে শুরু হবে যোগ্যতা নির্য়াক পর্বের খেলা। এই পর্ব থেকে মোট ৬টি দল উঠে আসবে মূল পর্বে। এই পর্বের খেলার জন্য তিন জন ম্যাচ রেফারি নিযুক্ত করেছে আইসিসি। যেখানে জিএস লক্ষ্মীর সঙ্গে আছেন নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার জেফ ক্রো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জি পিনার। এই ইতিহাস গড়ার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে লক্ষ্মী বলেন,'সত্যি বলতে, দারুণ লাগছে। এমন কোনও বিষয়ের সঙ্গে প্রথমবার আপনার নাম জড়ালে, তখন তো গর্বিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। আইসিসির ইভেন্টের মতো বড় কোনও প্রতিযোগিতায় দায়িত্ব পাওয়া আরও বেশি গর্বের। এই পর্যায়ের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আমি খুব খুশি।'
 
ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলতেন তিনি। ছোটবেলায় তার ভাই ও বন্ধুদের সাথেই ক্রিকেট খেলতেন। তার কলেজে ভর্তি হওয়াও এই ক্রিকেটের হাত ধরে। তার খেলার ধরণ, কৌশল আর ন্যাচারাল অ্যাকশন দেখেই একদিন কলেজ কর্তৃপক্ষ তাকে ডেকে নেয়। সেই থেকেই পথচলা শুরু। এরপর তো রাজ্যদলের হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন এই ইতিহাসসৃষ্টিকারী নারী। লক্ষ্মী আশাবাদী যে তাঁকে দেখে আরও অনেক মেয়ে ক্রিকেটে খেলতে উৎসাহিত বোধ করবেন। আইসিসি ম্যাচ রেফারিদের আন্তর্জাতিক প্যানেলে আমার উত্তরণ দেখে হয়তো আরও অনেক মেয়ে অনুপ্রাণিত হবেন এবং মেয়েদের জন্য এটি ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে দারুণ সুযোগ হবে।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top