কানামাছি ভোঁ ভোঁ, হারিয়ে যাওয়া এক খেলা।

ফারজানা নিপা, ঢাবি। | প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২০ ০৭:২৬; আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২০ ০৭:৩০

ছবিঃ ইন্টারনেট
আমরা যত বড় হচ্ছি আমাদের জীবনে হারানো বিষয়ের তালিকা বড় হচ্ছে। আমাদের শৈশবের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে অনেক খেলা। এখন সেই সব খেলার কথা মনে পড়লে খেলার সাথীদের কথাও মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে যায় শৈশবে কাটানো মজার দিনগুলির কথা। কিছু সময়ের জন্য আমরা আনমনা হয়ে যাই। উদাসীন মনেই বলে ফেলি 'ঈশ,আবার যদি শৈশবের সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম।' যাদের শৈশব কেটেছে গ্রামে তারা যেনো আরো বেশি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে। কারণ শৈশবের কৈশোরের অনেকটা সময় তারা পাড় করে পাড়ার ছেলেমেয়েদের সাথে খেলাধুলা করে।
 
যান্ত্রিকতা এবং আধুনিকতা আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছুই মুছে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের অনেকে জানেই না তারা কি হারাচ্ছে আর তারা কি পাচ্ছে! যে সময়টা তারা কাটাবে খেলার মাঠে সেই সময়টাতে তারা হয় হাতে মোবাইল বা ভিডিও গেমস নিয়ে থাকছে কিংবা কোনো কোচিংএর দিকে দৌড়াচ্ছে। "কানামাছি ভোঁ ভোঁ,যাকে পাবি তাকে ছোঁ"- বিকেলবেলায় এই ছড়া মাতিয়ে রাখতো খেলার মাঠ, বাড়ির উঠোন কিংবা বাড়ির পিছনের বাগান। কানামাছি খেলাটি বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলেই জনপ্রিয় একটি খেলা। বাড়ির উঠোনে বা মাঠে ছেলেমেয়েরা দল বেঁধে এ খেলা খেলে থাকে।এটি শুধু বাড়িতে নয় স্কুলের টিফিনের ফাঁকেও খেলা যায়। কিংবা একজন শিক্ষকের ক্লাশ শেষ হওয়ার পর অন্য শিক্ষক আসার মাঝখানেও এটি খেলা যায়। কানামাছি খেলাটি 'ব্লাইণ্ড বি' নামে ইউরোপেও প্রচলিত। দাসপ্রথায় অপরাধীর অন্যতম শাস্তি ছিল চক্ষু তুলে অঙ্গহানি করা; পরে তাকে শারীরিকভাবে উত্যক্ত করা। বিশেষজ্ঞদের ধারণামতে, কানামাছি খেলার উদ্ভবে এর ছায়াপাত থাকতে পারে।
 
এই মজার খেলার প্রথমেই টস করে একজনকে বেছে নিয়ে শক্ত কাপড় দিয়ে ভালভাবে চোখ বাঁধা হয় এবং সে দেখতে পায় কি না এজন্য চোখের সামনে আঙুল বা হাত নাড়িয়ে পরীক্ষা করা হয়। চোখবাঁধা ব্যক্তিকেই বলা হয় কানামাছি। এরপর তাকে মাঝখানে রেখে বাকি সবাই তাকে কেন্দ্র করে মাছির ঝাঁকের মত ঘুরতে থাকে আর ছড়া কাটতে থাকে 'কানামাছি ভোঁ ভোঁ,যাকে পাবি তাকে ছোঁ' বলে। তখন চোখবাঁধা ব্যক্তিটিও ছড়া কাটতে থাকে 'আন্ধা গোন্ধা ভাই,আমার কোনো দোষ নাই'। কানামাছি একজনকে ছুঁয়ে দিতে পারলে এবং ছুঁয়ে দেয়া ব্যক্তির নাম বলতে পারলে ঐ ব্যক্তিই হবে পরবর্তী কানামাছি। এভাবে একের পর এক কানামাছির পরিবর্তন হয় কিন্তু সুর ও ছন্দ অপরিবর্তনীয়ই থাকে। শৈশবের এই মজার খেলাটিও এখন হারানোর লিস্টে জমা হচ্ছে। এই প্রজন্মের অনেক ছেলেমেয়ে জানেই না এমন মজার একটি খেলার কথা। গ্রামাঞ্চলে শহরের বাতাস লাগাতে সেখান থেকেও এখন এমন মজার খেলাটি যাই যাই করছে। এখন খুব কমই এই খেলার দেখা মেলে। আমাদের শৈশব কৈশোরের এই খেলাটি নিজের স্বমহীমায় টিকে থাকুক যুগ যুগ ধরে।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top