টেনিস কোর্টের বিস্ময়ঃ এঞ্জেলিক কারবার।

সুরভী, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ। | প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৮:৩৭; আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০২০ ১৮:৩৮

ছবিঃ ইন্টারনেট

বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির -কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছি নারী , অর্ধেক তার নর।

– কাজী নজরুল ইসলাম

আসলে নারী হচ্ছে টি – ব্যাগের মত। গরম জলে দেয়ার আগে বুঝতে পারবো না সে কতটা শাক্তিশালী।বর্তমানে ঘরে এবং বাইরে সমান দক্ষতায় এগুচ্ছে প্রতিটি নারী।খেলার মাঠ ও তার ব্যতিক্রম নয়।তেমনি একজন নারীর নাম অ্যাঞ্জেলিক কার্বার, তার জন্ম (১৮ জানুয়ারি, ১৯৮৮) একজন জার্মান পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়।
কারবারের ছোটবেলার গল্পটা একটু বিচিত্র। লোকেরা পোল্যান্ডে জন্ম নিয়ে জার্মানিতে বসতি গড়ে। কিন্তু এঞ্জেলিক কারবারের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন হয়েছে। তার জন্ম জার্মানির ব্রেমেন শহরে।

বাবা স্লাওমির কারবার একজন পোলিশ নাগরিক। মা বিয়েটা কারবারও পোল্যান্ডের মানুষ। একটা ছোট বোন ও বাবা-মায়ের সাথে বড় হয়ে উঠেছেন জার্মানির আরেক শহর কিয়েলে। মাত্র ৩ বছর বয়সেই টেনিস খেলা শুরু করেন। পেশাদার টেনিসে ঢোকার পর, ২০১২ সালে কারবার নিজেদের আদি বাড়ি পোল্যান্ডের পোজান শহরে ফিরে যান। তবে বসবাস শুরু করেন নানার কাছে। কারণ, নানার বাসায় একটি ইনডোর টেনিস কোর্ট ছিলো। এটারই সুবিধা নিতে ও রাত-দিন পরিশ্রম করে নিজেকে আগে এগিয়ে নিতে পোল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক টেনিসে জার্মানিরই প্রতিনিধিত্ব করেন কারবার।

বিশ্বের প্রথম স্থান এবং তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টের বিজয়ী, তিনি ২০০৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার পেশাদার টেনিসের আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।

২০০৭ সালে কারবারের গ্র্যান্ডস্লাম অভিষেক হয়। সে বছর ফ্রেঞ্চ ওপেনে অংশ নিয়ে প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়েন তিনি। একই বছর ইউএস ওপেনে শুরু করেন সেরেনা উইলিয়ামসের বিপক্ষে। সেখানেও সরাসরি সেটে হেরে বিদায় নেন। প্রথম সাফল্যের জন্য ২০১৬ সাল এর ১২ই সেপ্টেমবর অবধি অপেক্ষা করতে হয়েছে তাকে। এছাড়াও ২০১১ সালে ইউএস ওপেনের সেমিফাইনালে পৌঁছে বিশ্বের ৯২ তম স্থান অধিকারী খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলেন। এই জার্মান টেনিস তারকা বলছিলেন,

‘২০১১ সালে আমি প্রতিটা টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডেই হেরে বসছিলাম। তখন আমি ভাবলাম, এর চেয়ে বরং আমার থেমে যাওয়া ভালো। আর ক্যারিয়ারে অন্য কিছু করার চেষ্টা করা ভালো।’

সেখানেই একটার পর একটা বিস্ময়কর জয় দিয়ে পৌঁছে গেলেন সেমিফাইনালে। আর এই সাফল্যের ফলে ওই বছরটা শেষ করলেন ৩২ নম্বর র‌্যাংকিংয়ে থেকে।

বাঁ-হাতি এই মহিলা টেনিস খেলোয়াড় কার্বার WTA ট্যুরের সমস্ত পৃষ্ঠায় ১২ টি ক্যারিয়ারের একক শিরোপা জিতেছে, একাধিক গ্র্যান্ড স্লাম শিরোনাম সহ: ২০১৬ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন, ২০১৬ ইউএস ওপেন এবং ২০১৮ উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করার সময় তিনি একটি অলিম্পিক রৌপ্য পদকও জিতেছেন। ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত কারবার বর্তমানে বিশ্বের ২৪ তম স্থানে রয়েছে।

কারবার শুধু টেনিস কোর্টেই ঝড় তুলছেন, তা নয়। মাঠের বাইরেও নানারকম সাফল্য এসে ধরা দিচ্ছে তার হাতে। এর মধ্যে বড় একটা ব্যাপার ছিলো সুইস ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোলেক্স তাদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করলো কারবারকে। ব্যাপারটা তার জন্য ছিলো বিরাট এক প্রাপ্তি।

 



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top