96

12/08/2022 শীতের শুষ্কতায় ত্বকের সুস্থতার জন্য করণীয়।

শীতের শুষ্কতায় ত্বকের সুস্থতার জন্য করণীয়।

আয়েশা আক্তার সুমি, ঢাবি।

১৭ নভেম্বর ২০২০ ১১:২৪

নির্জীব, ধোয়াশা, মন খারাপ করা চারিদিক। গাছের পাতা পড়ে যাচ্ছে তড়তড়িয়ে, চারিদিকে অসহ্য রকম শুষ্কতা।প্রকৃতির সেই প্রভাব পড়ে মানুষের ওপরও। ত্বক হয়ে ওঠে রুক্ষ, খসখসে। ঠোঁট ফেটে যায়। পায়ের গোড়ালি থেকে চামড়া উঠতে থাকে। চুল ভরে ওঠে খুশকিতে। আরও নানা সমস্যা দেখা দেয় শীতে। প্রকৃতি স্বাভাবিকভাবেই শীতের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিতে পারে না, তাই বসন্তকাল পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হয় নব যৌবন লাভের জন্য। কিন্তু মানুষ পারে সুরক্ষা নিতে। সে জন্য তাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়।

ত্বককে সুন্দর তরতাজা আর উজ্জ্বল রাখতে হলে অতিরিক্ত সূর্যরশ্মি অর্থাৎ অতিবেগুনি রশ্মি এড়িয়ে চলতে হবে। তা না হলে ত্বক বুড়িয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে যে কোনো একটি উৎকৃষ্ট সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। সাথে শুরু হয়েছে ত্বকের নানাবিধ সমস্যা। তাই এখন থেকেই শুরু হোক ত্বকের বাড়তি যত্ন। এতে শীতের শুষ্কতা কমিয়ে ত্বককে করবে মসৃণ এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

কেন ত্বক শুষ্ক হয়-

● আমাদের দেশে সাধারণত শীতকালে অল্প আর্দ্রতা, খুব সূর্যের আলো ও ঠান্ডা বাতাস এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়।

● বংশগত বা জিনগত কারণে, ৪০ বছর বয়সের পর তেল ও ঘামগ্রন্থির সংখ্যা কমে যায়।

● ক্লোরিনযুক্ত পানিতে অতিরিক্ত সাঁতার কাটলে বা গোসল করলে, বিশেষ করে গরম পানি বা ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে, ধূমপান, অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন গ্রহণ করলে।

● ভিটামিন এ ও বি-এর অভাব হলে। জিংক ও ফ্যাটি অ্যাসিডের অভাব হলেও ত্বক শুষ্ক হয়।

● কিছু চর্মরোগ, কিছু ওষুধ সেবন, এসিতে অতিরিক্ত অবস্থান, থাইরয়েড সমস্যা, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার ইত্যাদিও ত্বক শুষ্ক করে।

প্রতিকার কীভাবে-

● ত্বকের যত্নের শুরুতে একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার বেছে নিন। বাজার থেকে বাদাম তেল বা এভাকাডোসমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার কিনুন। এগুলো ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যতবার ত্বক শুষ্ক মনে হবে ততবার ব্যবহার করুন। ময়েশ্চারাইজার লাগানোর আগে ত্বকের মরা কোষ পরিষ্কার করে নিন।

● শীত আসছে বলে ভাববেন না যে, সানস্ক্রিন ব্যবহার করার প্রয়োজনীতা কমে গেছে। শীতকালেও বাইরে বের হওয়ার ৩০ মিনিট আগে এসপিএফ ১৫-৩০ সম্পন্ন সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

● কখনোই জিব দিয়ে ঠোঁট ভেজানো উচিত নয়। কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ঠোঁটে লাগালে ঠোঁট কখনোই ফেটে যাবে না।

● মেকআপ করার সময় লিক্যুইড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। শীতকালে ক্রিম ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন।

● প্রচুর পানি খাবেন। নরম সুতির আরামদায়ক পোশাক পরার চেষ্টা করবেন।

● গোসলের সময় আরাম অনুভব হলেও অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে মুখ, মাথা ধোয়া থেকে বিরত থাকবেন। অতিরিক্ত গরম পানি মুখের ত্বকের ফলিকলগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে, যা ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। গোসলের সময় পানিতে কয়েক ফোঁটা জোজোবা বা বাদাম তেল দিয়ে নিলে তা ত্বককে আর্দ্র ও মসৃণ করতে সহায়তা করে।

● এ সময় ইউরিয়াযুক্ত, পেট্রোলিয়াম জেলি লাগালে হাতের তালু অনেকটা মসৃণ হয়ে আসে। এছাড়াও শীতে অনেকের পায়ের তলা ফেটে যায়।

● সেলিসাইলিক অ্যাসিড অয়েন্টমেন্ট অথবা পেট্রোলিয়াম জেলি নিয়মিত মাখতে পারেন।

● শীতকালে কখনোই ভেজা চুলে বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। এতে করে চুলের আর্দ্রতা নষ্ট হয় এবং চুল ভেঙে যায়। চুল এবং মাথার তালুর আর্দ্রতা ধরে রাখতে হ্যাট পরুন। তবে হ্যাটটি যাতে বেশি টাইট না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।

প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্ন-

● যাঁদের পুরোনো চর্মরোগ যেমন সোরিয়াসিস, একজিমা, ইকথায়সিস ইত্যাদি আছে, তাঁদের ত্বকের সমস্যা এই সময় বেড়ে যেতে পারে। তাই তাঁদের হতে হবে আরও সচেতন। প্রয়োজনে আগে থেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাকসুদা আক্তার তমা
যোগাযোগ: এনিমা ভিস্তা, বি-৬ (৬ষ্ঠ তলা) , ৩০ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
মোবাইল: ০১৮১১৫১৫৫৬৫
ইমেইল: [email protected]