44

12/06/2021 নো ব্রা ডে এবং সচেতনতা।

নো ব্রা ডে এবং সচেতনতা।

আয়শা আকতার সুমি, ঢাবি।

১৩ অক্টোবর ২০২০ ১৫:৪৪

 
আজ, ১৩ই অক্টোবর বক্ষবন্ধনীহীন দিবস (No Bra Day)। প্রতীকীভাবে এদিন মেয়েদের কাঁচুলি না পরতে উৎসাহিত করা হয়। এই দিবসের তাৎপর্য হলো, "সবাইকে সচেতন করা যে সর্বক্ষণ কাঁচুলি পরে থাকা স্বাস্থ্যের জন্যে একটি মারাত্মক হুমকি। এতে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।"
 
বক্ষবন্ধনীর ইংরেজি brassiere শব্দটি সর্বপ্রথম ইংরেজি ভাষায় ব্যবহার করা হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দের দিকে। সংক্ষেপে ও সাধারণত এটি ব্রা নামেই উল্লেখিত। যদিও ফরাসী ব্রেসিয়ার শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল বাহুরক্ষক বা arm protector। প্রতিদিন সারা বিশ্বের কোটি কোটি মহিলা যে অন্তর্বাসটি পরিধান করে থাকেন, ইংরিজিতে যার নাম ব্রাসিয়ের কিংবা ব্রা, সেই বক্ষবন্ধনীর পেটেন্ট নথিভুক্ত করা হিয় এখন থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে, ১২ই ফেব্রুয়ারি ১৯১৪ তারিখে ৷
 
প্রাচীন গ্রীসে নারীর স্তনযুগল সমর্থন করতে একটি বিশেষ পোশাক পরিধানের নকশা করা হয়েছিল। নারীরা অ্যাপোডিসমোস (গ্রিক: ἀπόδεσμος[৩]), পরবর্তীতে stēthodesmē (Gr: στηθοδέσμη[৪]), মাসটোডিসমোস (Gr: μαστόδεσμος[৫]) এবং মাসতোডিটন (Gr: μαστόδετον[৬]), সবগুলোর অর্থ "স্তন-বন্ধনী", উল বা লিনেনের একটি বন্ধন যা স্তনযুগল আড়াঅড়িভাবে মুড়ে রাখতো এবং পেছন থেকে বেঁধে রাখতো। ষোড়শ শতক থেকে পাশ্চাত্যের ধনী নারীরা অন্তর্বাস হিসাবে করসেট ব্যবহার করতেন যা মূলত স্তনযুগলকে উপরের দিকে তুলে রাখতে সাহায্য করত।
 
স্তন কর্কট রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতি প্রয়োজনীয় না হলে এবং বিশেষ করে নিজ গৃহে বক্ষবন্ধনী না পরাই বিধেয়। এটার পিছনে কিছু কারন রয়েছে। প্রথমত, সারাক্ষণ ব্রা পরে থাকলে স্তন ক্যান্সার হয়, এমন কোন নিশ্চিত প্রমাণ এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের কাছে নেই। আবার স্তন ক্যান্সার যে হয়ই না, সেটাও গ্যারান্টি দিয়ে বলা যায়না। একই ব্রা সারাদিন পরে থাকায় স্তনে র‍্যাশ বা ত্বকের নানান রকম অসুখ হতে পারে। সারাক্ষণ ব্রা পরে থাকার ফলে ঘাম হয়, ফলে নানান রকম ফাঙ্গাল ইনফেকশন হতে পারে। ব্রায়ের ফিতায় কাঁধ ও পিঠে ত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, কাঁধ বা পিঠে এবং বুকে ব্যথা হতে পারে টাইট বক্ষবন্ধনী এর কারণে।
 
দ্বিতীয়ত, কাপের নিচে কাঠি বসানো বক্ষবন্ধনী কিংবা পুশ আপ বক্ষবন্ধনী সারাক্ষণ পরে থাকলে স্তনে অস্থায়ী লাম্প দেখা দিতে পারে। এই লাম্পগুলো থেকে যে অন্য অসুখ হবেই না, এমন কোন নিশ্চয়তা নেই। তৃতীয়ত, ব্রা পরে ঘুমানো উচিত নাকি অনুচিত তা নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধা রয়েছে। তবে,বেশ কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে বক্ষবন্ধনী পরে ঘুমোলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ব্রা পড়ে ঘুমালে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়,ত্বকে দাগ বসে যায় ও চুলকাতে পারে,ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।
 
এসব জেনে শুনে নো ব্রা ডের কন্সেপ্ট কত্থেকে আসল এবার সেটা জেনে নেয়া যাক। "নো ব্রা ডে" পালন করা শুরু হয় ২০১১ সালের ৯ জুলাই। প্রথম তিন বছর জুলাইয়ে নো ব্রা ডে পালন করা হলেও, পরবর্তীতে অক্টোবরের ১৩ তারিখ থেকে পালন করা হয়ে আসছে এই বিশেষ দিনটি। কারণ অক্টোবর হলো "ব্রেস্ট ক্যান্সার এওয়ারনেস মান্থ"
 
স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতেই মূলত এই নো ব্রা দিবস পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবং অনেক বিশেষজ্ঞই মনে করতেন ব্রা ব্যবহারের ফলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি একটু বেশিই বৃদ্ধি পায়। যদিও এ গবেষণা প্রমাণিত নয়।
এখন কৌতূহলী হয়ে অনেকেই জানতে চাইবেন- ব্রেস্ট ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তুলতে নো ব্রা ডে কেন? বিশেষত এই দিনটিতে সকল নারীদের স্তন পরীক্ষা করানোর প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়। যার প্রতীকী রূপে দিনটিকে বলা হয়ে থাকে নো ব্রা ডে।
জড়তা ও লজ্জা ভেঙে প্রতিটি নারীকেই ব্রেস্ট ক্যান্সারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। একজন সচেতন নারী যদি আরও দশজনকে সচেতন করতে পারেন, তবেই বাড়বে সচেতনতা। কমবে ব্রেস্ট ক্যান্সারে মৃত্যুর হার।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মাকসুদা আক্তার তমা
যোগাযোগ: এনিমা ভিস্তা, বি-৬ (৬ষ্ঠ তলা) , ৩০ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০
মোবাইল: ০১৮১১৫১৫৫৬৫
ইমেইল: [email protected]