শাহীন আখতারের 'তালাশ' পেলো এশিয়া লিটারেরি এওয়ার্ড।

ফারজানা নিপা, ঢাবি। | প্রকাশিত: ৫ নভেম্বর ২০২০ ০৭:১৫; আপডেট: ৫ নভেম্বর ২০২০ ০৭:১৬

ছবিঃ ডেইলি স্টার

করোনা মহামারীর কারণে এ বছর "এশিয়া লিটারেচার ফেস্টিভাল" অনলাইনে ও অফলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংজু শহরে ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এ নিয়ে তৃতীয়বার অনুষ্ঠিত এশিয়া লিটারেচার ফেস্টিভ্যালের অন্যতম আয়োজন ছিল 'এশিয়া লিটারেরি অ্যাওয়ার্ড' প্রদান। এই পুরস্কারটি প্রদান করা হয় এশিয়ান লেখকদের, যারা দেশীয় ভাষায় লিখে থাকেন। কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতার তার 'তালাশ' উপন্যাসের জন্য 'এশিয়া লিটারেরি অ্যাওয়ার্ড ' পেয়েছেন।

২০১৭ সালে চালু হওয়া পুরস্কারটি প্রথম পেয়েছিলেন মঙ্গোলিয়ার কবি মি. ইউরিয়ানখাই ডামডিনসুরেন। শাহীন আখতার হলেন একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক। তাঁর জন্ম ১৯৬২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলায়।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে স্নাতক পাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতে চলে যান এবং সেখানে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে পড়াশুনা করেন। ভারত থেকে ১৯৯৭ সালে দেশে ফিরে আসেন। কর্মজীবনে তার প্রথম কাজ ছিল প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ। তার চলচ্চিত্র নির্মাণেরও অনেক সুযোগ ছিল। কিন্তু পরিবারের অনিচ্ছা ও বিয়ের কারণে আর তা হয়ে ওঠে নি। বর্তমানে শাহীন ঢাকাস্থ আইন ও শালিস কেন্দ্রের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৯৭ সালে ভারত থেকে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি তার প্রথম উপন্যাস 'পালাবার পথ নেই' রচনা শুরু করেন। এই বইতে তিনি দুজন নারী একা শহরে বাস বিষয়ক জটিলতা ও সংগ্রামের কথা বর্ণনা করেন। ২০০৪ সালে তাঁর রচিত 'তালাশ' উপন্যাস সাড়া ফেলে। এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আর যুদ্ধাক্রান্ত মানুষ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখ লাখ বাঙালি নারীদের ওপর মিলিটারি ক্যাম্পগুলোয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা যে পৈশাচিক দৈহিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়েছে, তারই লোমহর্ষক বর্ণনা এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় লেখিকার বয়স অল্প হলেও ঐ সময়ের কিছু স্মৃতি তার মনে বেশ প্রভাব ফেলে। বীরাঙ্গনা নারীদের নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে লেখিকার সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে অনেক বিষয়। তারা যুদ্ধপরবর্তী সময়েও সামাজিকভাবে ছিলেন অবহেলিত। আর এই কঠিন বাস্তবতাই তাকে 'তালাশ' উপন্যাসটি লিখতে উদ্বুদ্ধ করে। ২০১১ সালে 'দ্য সার্চ' নামে ইংরেজি অনুবাদ হয় এই উপন্যাসটি। কোরিয়ান ভাষায়ও অনুবাদ হয় এটি।

২০১৫ সালে তিনি কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। এছাড়া IFIC ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, প্রথম আলো বর্ষসেরা বই ১৪১০ পুরস্কারেও ভূষিত হন। ছোটগল্পও রচনা করেন তিনি। যেমন-বোনের সঙ্গে অমরলোকে,পনেরটি গল্প, শ্রীমতির জীবনদর্শন অন্যতম কয়েকটি ছোটগল্প। তিনি সতি ও স্বতন্তরা:বাংলা সাহিত্যে নারী সম্পাদনা করেন।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top