ইন্সপায়রেশন

নোবেল বিজয়ী নারী-২০২০

মাকসুদা আকতার তমা, ঢাবি | প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২০ ২১:৩১; আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২০ ২২:০৯

ছবিঃ ইন্টারনেট

প্রতি বছর অক্টোবর মাসটা জ্ঞান-বিজ্ঞানের জগতের মানুষদের কাছে এক অন্যতম গুরুত্ব বহন করে।মোটামুটি সবাই অধীর আগ্রহে বসে থাকে বছরের নোবেল বিজয়ীদের নাম জানার জন্য।

 

১৮৯৫ সালে নোবেল পুরস্কার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ২০২০ পর্যন্ত মোট ৫৭ জন নারী ৫৮ বার (প্রথম নারী নোবেল বিজয়ী মেরি কুরি ২ বার) নোবেল পুরস্কার সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

 

২০১৯ সালের হিসাব মতে নোবেল পুরষ্কারগুলি মোট ৮৬৬ পুরুষ, ৫৩ মহিলা এবং ২৪ টি প্রতিষ্ঠান (পুরষ্কার যারা একবারে একাধিক পুরস্কার জিতেছে) পেয়েছে।

 

নারী নোবেল বিজয়ীদের বন্টন নিম্নরূপ:

 

.১৭ জন নারী শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন (১০৭ জন এবং মোট 28 টি প্রতিষ্ঠানের ১২.৬% )

  • ষোলজন সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন (মোট ১১৭ জন বিজয়ীর মধ্যে ১৩.৭%)
  • বারোজন চিকিৎসাবিজ্ঞান বা মেডিসিনে নোবেল পুরষ্কার জিতেছেন (মোট ২২২ জন বিজয়ীর ৫.৪% )
  • সাতজন রসায়নের নোবেল পুরষ্কার জিতেছে (মোট ১৮৬ জন বিজয়ীর ৩.৮% ) ,
  • চারজন পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল পুরষ্কার জিতেছেন (মোট ২১৬ জন বিজয়ীর ১.৯% )
  • এবং দুটি, এলিনর অস্ট্রোম এবং এস্থার ডুফ্লো অর্থনীতিতে নোবেল স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছেন (মোট ৮৪৮ জন বিজয়ীর ২.৪%) ।[তথ্যসূত্রঃউইকিপিডিয়া]

 

২০০৯(০৫) সালের পর এই প্রথম সর্বোচ্চ সংখ্যক(০৪) নারী পেলো এই পুরস্কারের মর্যাদা।গত বছরও যার সংখ্যা ছিল মাত্র ১ জন (এস্তের দুফ্লো-অর্থনীতি)।

সারাবছর পুরো বিশ্ব জুড়ে নারীর প্রতি এতো সহিংসতার খবরের পর ৪ জনের এই সফলতায় একটু হলেও সস্তুি দেয়, নারীর ক্ষমতায়নের বাস্তবিক রূপ হয়তো একটু হলেও চোখে ভেসে ওঠে।

 

সাহিত্য, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন এই তিন ক্যাটাগরিতে এবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যথাক্রমে লুইস গ্লাক, আন্দ্রিয়া ঘেজ, ইমানুয়েল শারপেনটিয়ের ও জেনিফার অ্যা ডাউডনা।

 

১.লুইস গ্লাকঃ

১৯৪৩ সালের নিউইয়র্ক শহরে লুইস গ্লাস জন্মগ্রহণ করেন লুইস গ্লাক।বর্তমানে তিনি ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির অধ্যাপক।

এছাড়াও এর আগে সারা লরেন্স কলেজ, উইলিয়াম কলেজ, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি শিক্ষকতা করেন।

লুইস গ্লাকের প্রথম কবিতার বই ‘ফার্স্টবর্ন’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে। এই কাব্যগ্রন্থে ছিল তার স্বকীয়তা। মানবাত্মার বিশ্বাস ও বিশ্বাসহীনতা, মানবিকতা ও অমানবিকতা, নৈতিকতা ও অনৈতিকতা, স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ, মিথ ও বাস্তবতা সব মিলিয়ে প্রথম বইয়ের মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। ১৯৯২ সালে পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন কাব্যগ্রন্থ ‘দ্য ওয়াইল্ড আইরিশ’ এর জন্য। এই কাব্যগ্রন্থের তিনটি ভাগ রয়েছে। প্রথম ভাগে কল্পনার বাগানে ফুলগুলো কথা বলে মালির সঙ্গে, দ্বিতীয় ভাগে মালি নিজের সঙ্গে নিজেই কথা বলেন আর তৃতীয় ভাগে রয়েছে ঈশ্বরবন্দনা। এই তিন ভাগ একত্রে পড়লে পাঠক অজানা এক জীবনভ্রমণ করে আসেন যেখানে থাকে অজানা অনেক প্রশ্ন, অচেনা অনেক পথ।

‘মেডোল্যান্ডস’ নামে যে কাব্যগ্রন্থটি ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয় তাতে গ্লাক লিখেছেন রোমান ও গ্রিক মিথ নিয়ে। এই বইয়ের কবিতাগুলো পড়লে পাঠক প্রতি পৃষ্ঠায় অনুভব করতে পারবেন ওডেসিস ও পেনোলেপের আর্তনাদ। চিরায়ত মিথ নিয়ে লিখতে পারা গ্লিকের অন্যতম শক্তি বলা যায়। নিজস্ব ভাবনা ও স্মৃতিচারণার সঙ্গে মিথ ও পৌরাণিক গল্পের অসামান্য সংযোগ ঘটিয়ে লিখেছেন ‘দ্য সেভেন এজেন্স’, যা প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে। ‘আভের্নো’ নামে আরও একটি গ্রন্থ লিখেছিলেন মিথ চরিত্র দেবী পারসেফেনির ভাবনাকে ধারণ করে। এই বইয়ে বর্তমানে বাস করা একজন মা ও মেয়ের জীবনকে মিথের সঙ্গে মিলিয়ে যেভাবে চিত্রকল্প দাঁড় করিয়েছেন তাতে তার কাব্যশক্তির সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। ‘আ ভিলেজ লাইফ’ নামে গ্লাকের লেখা কাব্যগ্রন্থটিকে তার সেরা সৃষ্টিকর্ম বলে মানেন অনেক সমালোচক। এই গ্রন্থে ভিলেজ বলতে তিনি সময় ও সভ্যতাকে চিত্রিত করেছেন, এঁকেছেন নিজের জীবনের বিমূর্ত ছবি।

 

এ পর্যন্ত গ্লাকের লেখা বইয়ের সংখ্যা ১২। উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘দ্য হাউস অব মারসল্যান্ড’, ‘দ্য গার্ডেন’, ‘ডিসেন্ডিং ফিগার’, ‘আরারাত’ ইত্যাদি। তার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘ফেইথফুল অ্যান্ড ভার্চ্যুয়াস নাইট’ প্রকাশিত হয়েছে ২০১৪ সালে। ২০১৭ সালে প্রকাশ পেয়েছে প্রবন্ধ সংকলন ‘আমেরিকান অরিজিনালিটি’।

 

১৯৯৩ সালে টনি মরিসনের পর প্রথম আমেরিকান নারী হিসেবে এই সম্মাননা অর্জন করলেন গ্লাক।

 নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার সব কাজেই স্পষ্টবাদিতার প্রয়াস লক্ষণীয়। শৈশব ও পারিবারিক জীবন এবং বাবা-মা আর ভাইবোনের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক সবসময় তার কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। তিনি মিথ ও শাস্ত্রীয় মোটিফ থেকে প্রেরণা নিয়ে বিশ্বজনীন হওয়ার চেষ্টা করেছেন।

 

নোবেল পুরষ্কার জয়ের বিষয়ে, গ্লাক নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন যে তিনি "পুরোপুরি বিস্মিত হয়েছিলেন যে তারা একজন সাদা আমেরিকান লিরিক কবি বেছে নেবেন। ... আমি ভেবেছিলাম, আমি এমন একটি দেশ থেকে এসেছি যার সম্পর্কে  এখন আর  ভালভাবে ভাবা হয় না এবং আমি যেহেতু শেতাঙ্গ এবং আমাদের সমস্ত পুরষ্কার আছে সুতরাং আমার জীবনে এই বিশেষ ঘটনাটি কখনই আসতে পারে তার সম্ভাবনা খুব কমই হবে বলে মনে হয়েছিল। "

তিনি আরও বলেন, " আমি কেবল এটুকুই বলতে চাই 'জীবনের সবচেয়ে বাস্তব মুহূর্তগুলো কবিতায় পাওয়া যায়' আর বাকিসবই হলো কেবল আনন্দের খোরাক"

 

 

২.আন্দ্রিয়া ঘেজঃ

আন্দ্রিয়া ঘেজ ১৯৬৫ সালের ১৬ ই জুন নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ করেন।১৯৮৭ সালে এমআইটি থেকে পদার্থবিজ্ঞানে ব্যাচেলর ডিগ্রি ও ১৯৯২ সালে ক্যালটেক থেকে ডক্টরেট করেন। ১৯৯৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেসে পদার্থবিজ্ঞানের প্রফেসর হিসেবে যোগদান করেন। বিজ্ঞানের প্রতি ঘেজের ভালোবাসা একদম অল্প বয়স থেকেই। ছোটবেলায় তিনি প্রথম নারী হিসেবে চাঁদে যাবেন এমন স্বপ্ন দেখতেন। এই ভালোবাসাই তাকে বিভিন্ন সময় এনে দিয়েছে নানা সম্মান। গবেষণার জন্য ঘেজ ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস, দ্য আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্স থেকে সম্মানপ্রাপ্ত হয়েছেন, রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস থেকে প্রথম নারী হিসেবে ক্রাফরুড পুরস্কার পেয়েছেন। ২০১৯ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সম্মানসূচক ডিগ্রি অর্জন করেন।

পদার্থবিজ্ঞান ক্যটাগরিতে তিনি ৪র্থ নারী হিসেবে এ বছর এই পুরস্কারে সম্মানিত হলেন।

এই ক্যাটাগরিতে আরও দুজন পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন রানহার্ড গেঞ্জেল ও রজার পেনরোজ। নোবেল পুরস্কারের অর্ধেক পাবেন রজার এবং অর্ধেক ভাগ হবে গেঞ্জেল ও ঘেজের মাঝে। রজার পুরস্কার পাচ্ছেন আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব ((General Theory of Relativity)) যে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্বকে সমর্থন করে, এই আবিষ্কারের জন্য। বাকি দুজন অর্থাৎ ঘেজ ও গেঞ্জেল পাচ্ছেন ছায়াপথ বা গ্যালাক্সির কেন্দ্রে যে একটা দৃঢ় বস্তু (Compact object-Supermassive Blackhole) আছে, সেটার আবিষ্কারে অবদান রাখার জন্য। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই তিনজনই নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন ব্ল্যাকহোল নিয়ে কাজ করার জন্য। ২০১৯ সালের জুলাই মাসে, ঘেজ ও তার গবেষক দল ‘আলবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা সম্পর্কিত সাধারণ তত্ত্বের ব্যাপক পরীক্ষা’ নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন জার্নাল সায়েন্সে। আইনস্টাইনের তত্ত্ব নিয়ে সেই পত্রে ঘেজ বলেছিলেন ‘আইনস্টাইন সঠিক বলেছেন, অন্তত এখন পর্যন্ত’। তবে সেটা ছিল গত বছরের কথা। ঘেজ ও তার দল গবেষণা বন্ধ করেননি। সেই গবেষণাই আজ তাকে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির আনন্দ দিল।

 

সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলকে প্রদক্ষিণ করছে এমন ৩ হাজার নক্ষত্র নিয়ে ঘেজ কাজ করেছেন। ব্ল্যাকহোলের ঘনত্ব এত বেশি যে কোনো ভারী মহাজাগতিক বস্তুর অভিকর্ষ বল বা অসম্ভব জোরালো টানে আশপাশে থাকা প্রায় সবকিছুই তার মধ্যে ঢুকে পড়ে, এমনকি আলোও। অনেক নক্ষত্রের মাঝে এমন একটি ব্ল্যাকহোল আছে বলে জানিয়েছিলেন ঘেজ। স্বাভাবিকভাবেই জটিল এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তিতে ঘেজ খুবই আনন্দিত।

 

সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের আশপাশে কীভাবে গ্র্যাভিটি কাজ করে তাই নিয়ে কাজ করেছেন ঘেজ ও তার দল। আইনস্টাইন দেখিয়ে গিয়েছেন কীভাবে গ্র্যাভিটি কাজ করে। কিন্তু তাতেও সব তথ্য স্বচ্ছ ছিল না। তার তত্ত্বকে কিছুটা সরিয়ে রেখে গ্র্যাভিটি ও ব্ল্যাকহোল কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে তাদের কাজ করতে হয়েছে। এই প্রকাশনাটি প্রকাশ হওয়ার মাত্র দুই মাস পর, তিনি ও তার দল অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারসে ব্ল্যাকহোল নিয়ে অদ্ভুত একটি তত্ত্ব প্রকাশ করেন। তাতে লেখা ছিল ব্ল্যাকহোলে গ্যাস ও ধুলো মেশানো একটি এলাকা রয়েছে। তবে তারা বুঝতে পারছেন না জায়গাটি ঠিক কেমন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, গত ২৪ বছরের গবেষণায় এমন কিছু এর আগে তারা দেখতে পাননি। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তারা আবার জানান, ব্ল্যাকহোল থেকে খুব বেশি দূরে নয়, আবার ছায়াপথের কেন্দ্রে গ্যাসের মতো দেখতে ও নক্ষত্রের মতো আচরণ করে এমন কিছু বস্তু তারা দেখতে পাচ্ছেন। ২০০০ সালে, প্রথমবারের মতো ঘেজ জানিয়েছিলেন, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন কীভাবে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের চারপাশে নক্ষত্রদের গতি বেড়ে যায়। ২০০৩ সালে জানিয়েছিলেন, মিল্কিওয়ের ব্ল্যাকহোল কীভাবে ক্রমাগত শক্তিশালী হচ্ছে। ২০০৫ সালে ঘেজ ও তার কলিগরা মিলে ব্ল্যাকহোলের চারপাশসহ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের স্পষ্ট ছবি তুলেছিলেন।

 

জয়ের পর তিনি সাক্ষাতকারে বলেন, "আমাদের অসাধারণ যন্ত্র আর বিশ্বের সেরা গবেষক দল আছে। এই দুই মিলে নতুন আবিষ্কারে আমরা সত্যিই অনেক আনন্দিত। আমরা বুঝতে চেষ্টা করেছি কীভাবে বৈশ্বিক এই বিষয়টি এখনো সম্পূর্ণ জানা যায়নি তা নিয়ে। নোবেল পুরস্কার সত্যিই আমাদের কাজকে সম্মানিত করেছে, তবে আমাদের এখনো শেখার অনেক কিছু রয়েছে।"

 

তিনি আরও বলেন, "আপনার আশেপাশে কিছু লোক সবসময় থাকবে যারা সবসময় মেয়ে বলে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলবে গবেষণার কাজ মেয়েদের না।তাই এগুলোকে অবশ্যই এড়িয়ে চলতে হবে।"

"আমি বিশ্বাস করি একজন নারীরই উচিত সর্বপ্রথম আরেকজন নারীকে সাপোর্ট করা"।

 

৩.এমিলিয়া শার্পেন্টারঃ

১৯৬৮ সালে ফ্রান্সের জুভিসি সু হজ-এ জন্মগ্রহণ করেন এমিলিয়া। প্যারিসের পিয়েরে অ্যান্ড ম্যারি কুরি ইউনিভার্সিটিতে বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি ও জেনেটিকসে পড়ালেখা করেন। এখানেই ১৯৯৩-৯৫ সাল পর্যন্ত সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৯৬ সালে আমেরিকায় এসে নিউ ইয়র্কের রকফেলার ইউনিভার্সিটিতে পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কাজ করেন। ১৯৯৬-৯৭ সালের মধ্যে তিনি কাজ করেছেন মাইক্রোবায়োলজিস্ট অ্যালাইন সওমানেনের সঙ্গে। ১৯৯৭-৯৯ সাল পর্যন্ত নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের অ্যাসিস্টেন্ট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট হিসেবে ত্বকের কোষের জীববিজ্ঞানী পামেলা কোয়িনের সঙ্গে কাজ করেছেন। ২০০২-০৪ সাল পর্যন্ত ভিয়েনা ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকসের অতিথি প্রফেসর হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৪ সালে স্ট্রেপ্টোকোক্কাস পায়োজেনস নামক প্রজাতিতে আরএনএ মলিকিউলের সংযুক্ততা নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করেন। ২০০৯-১৪ সাল পর্যন্ত সুইডেনের ইউমিয়া ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড ইমিউনোবায়োলজির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৮ সালে জার্মানিতে প্রতিষ্ঠা করেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইউনিট ফর দ্য সায়েন্স অব প্যাথোজেনস। মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও বায়োকেমিস্ট হিসেবে শারপেনটিয়ারের কর্মজীবন দারুণ সমৃদ্ধ।

 

 

৪.জেনিফার অ্যা  ডাউডনাঃ

ডাউডনা জন্মগ্রহণ করেছেন ওয়াশিংটন ডিসিতে, বেড়ে উঠেছেন হাওয়াই-এর হিলোতে। ১৯৮৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার পামোনা কলেজ থেকে গ্রাজুয়েট এবং ১৯৮৯ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এরপর ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে মলিকিউলার বায়োলজি এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে জেনেটিকস বিষয়ে রিসার্চ ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন। ১৯৯১-৯৪ সাল পর্যন্ত ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারে বায়োমেডিকেল সায়েন্স নিয়ে আমেরিকান রসায়নবিদ থমাস চেকের সঙ্গে কাজ করেছেন।

শার্পেন্টার এবং জেনিফার যৌথভাবে ২০২০সালে ক্রিসপ্র-ক্যাস ৯ নামে একটি নতুন জিনগত সম্পাদনা পদ্ধতিতে কাজ করার জন্য রসায়নে নোবেল পুরষ্কার  পান, যা পরীক্ষামূলক চিকিত্সার জন্য প্রয়োগ করা যেতে পারে সিকেল সেল ডিজিজ এবং ক্যান্সারের থেরাপিগুলোতে।

 শার্পেন্টার এবং ডাউডনা হলেন  ষষ্ঠ এবং সপ্তম নারী যারা রসায়নের নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন।

 

“এই জিনগত সরঞ্জামটিতে প্রচুর শক্তি রয়েছে, যা আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে। এটি কেবল মৌলিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেই বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটায়নি, ফলস্বরূপ উদ্ভাবনী ফসলের ফলস্বরূপ ঘটেছে এবং নতুন চিকিত্সার চিকিত্সার কারণ হয়ে উঠবে, ”এক বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কমিটির কমিটি চেয়ারম্যান ক্লেস গুস্তাফসন বলেছেন ।

 

এই "জেনেটিক কাঁচি" আবিষ্কারগুলি, যা অত্যন্ত উচ্চ নির্ভুলতার সাথে জীবিত প্রাণীর ডিএনএকে পরিবর্তন করতে পারে, স্ট্র্যাপ্টোকোকাস পাইজিনেসের শার্পেনিয়ারের গবেষণার সময় ঘটেছিল , যা এক ধরণের ব্যাকটিরিয়া যা মানুষের জন্য ক্ষতিকারক সংক্রমণের কারণ হতে পারে। সেখানে তিনি ট্র্যাকআরআরএনএ নামে একটি অজানা অণু আবিষ্কার করেছিলেন। ২০১১ সালে তার অনুসন্ধানগুলি প্রকাশের পরে, তিনি আরএনএ-র বিশেষজ্ঞ ডাউডনার সাথে অংশীদার হন এবং দুজনে একটি টেস্ট টিউবটিতে ব্যাকটেরিয়ার জিনগত কাঁচি পুনরায় তৈরি করতে যান।

 

জয়ের পর ডাউডনা তার সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমি ভাগ্যবান।কারণ আমার পরিচিত বন্ধু, আত্মীয়, কলিগ সকলের আমার কাজে বিভিন্নভাবে সাপোর্ট করেছে।তবে অনেকসময়ই কিছু অপ্রত্যাশিত এবং ডিমিনিং কথা আমাকে শুনতে হয়েছে।একবার আমার হাইস্কুলের একজন ইনস্ট্রাক্টর আমায় বলেছিলেন 'বিজ্ঞান আসলে মেয়েদের জন্য না'।

আশা করি তাদের প্রতিউত্তর আমার কাজের মাধ্যমে দিতে পেরেছি। "

 

ডাউডনা এবং শার্পেন্টারের জয়ের বিষয়ে ডালাসের চিলড্রেনস মেডিকেল সেন্টারের রসায়ন বিভাগের ক্লিনিকাল পরিচালক এবং আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্লিনিকাল কেমিস্ট্রি এর প্রাক্তন সভাপতি  ড. প্যাট্রিসিয়া জোন্স বলেছেন, "সিআরআইএসপিআর কাজটি বিশাল এবং খুব আশাব্যঞ্জক"। "এই দুই নারীর নোবেল পুরষ্কার জেতায় আমি আনন্দিত হয়েছি কারণ এটি আবার দেখায় যে নারীরা প্রতিদিনের ভিত্তিতে কী করতে সক্ষম এবং কি করছেন।"

 

এএফপি নিউজ এজেন্সি পোস্ট করা একটি ভিডিওতে নথি হিসাবে তার গ্রহণযোগ্যতার বক্তৃতার সময়  , শার্পেন্টার বলেছিলেন যে তিনি আশা করেন যে "মেয়েরা এবং তরুণ নারী বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন যে কিছুই অসম্ভব নয়। "মেয়েরা এখন দুর্দান্ত  সব আবিষ্কার করতে পারে, ফলাফলগুলিকে কার্যকর করতে পারে।এটি কখনই লিঙ্গ দ্বারা সীমাবদ্ধ নয় "।

 

আমরা আশা করি আগামীর দিনগুলোতে কেবল তিন-চার কিংবা পাঁচ নয় ছয় ক্যাটাগরিতেই প্রতি বছর এমনিভাবে নারীদেরকে বিজয়ী হিসেবে পাবো।তাদের অনুপ্রেরণায় বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের নারীরা নিজেদের আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠবে এবং স্বীয় কাজে নিয়োজিত থাকবে।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top