সাগরকন্যার বউ বাজার

সংসারের হাল ধরেছেন নারীরা।

ফারজানা নিপা, ঢাবি। | প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২০ ১৮:১৪; আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২০ ১৮:১৪

ছবিঃ ইন্টারনেট
সাগরকন্যা নামে খ্যাত জেলা পটুয়াখালী। এই সাগরকন্যার বুকেই একদল নারী অজ্ঞতা মূর্খতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন মাথা উঁচু করে। হাল ধরেছেন সংসারের। শুধুমাত্র শহরের নারী নয় চরাঞ্চলের নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে। নারীরা দোকান নিয়ে বসেছে হাটবাজারে। সে বাজারের নাম 'বউবাজার'। এই বাজারের বেশিরভাগ দোকানি-ই হলো নারী। মূলত নারী দোকানির প্রাধান্যের কারনেই এটি বউবাজার হিসেবে পরিচিত। পেটের দায়ে, দুবেলা দুমুঠো অন্নের বন্দোবস্ত করার জন্যই নারীরা এই বাজার নিয়ে বসেছে। কোনো শখের বসে নয়।
 
বাবা কিংবা স্বামী কিংবা ভাইয়ের একার রোজগারে যখন পরিবারের সকলের মুখে আহার জোটাতে হিমশিম খেতে হয় তখন নারীরা হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। যোগ্য কন্যা কিংবা অর্ধাঙ্গী কিংবা বোনের মতই নিজে নেমে পড়ে উপার্জনের জন্য। এমনই এক বাজার রয়েছে পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে। দুই যুগ আগে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর বাঁকে বাজারটি মিলেছে। চরমোন্তাজ ইউনিয়ন একটি দুর্গম জায়গায়। এই দুর্গম জায়গার নারীরাই এমন যুগান্তকারী কাজ করে যাচ্ছেন। নদীর পাড়ের মানুষেরা এমনিতেই প্রতিনিয়ত লড়াই সংগ্রাম করে বেঁচে থাকে। সংগ্রাম তাদের রক্তে মিশে আছে। অত সাত পাঁচ না ভেবে স্বামীর সাথে স্ত্রীও পরিবারের হাল ধরে।
 
আমাদের সমাজে নতুন কোনো কাজ এমনিতেই সহজভাবে মেনে নেয় না আর তা যদি নারীদের হাত থেকে শুরু হয় তখন তো আর কোনো কথাই নেই। সমাজের লোক বলে উঠে 'ছিঃ ছিঃ দেশটা উচ্ছন্নে গেলো, সব নষ্ট হয়ে গেলো, সবই শেষ যমানার আলামত'। এসব বলেই সব থামিয়ে দেয়ার পায়তারায় নামে। কিন্তু সমাজের এসব লোকদের মুখের উপর কড়া জবাব দিয়ে উপার্জন করে যাচ্ছেন চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নারীরা। বেড়িবাঁধের দুই সাড়িতে হরেকরকম পণ্যের অর্ধশত দোকান। এই দোকানগুলোতে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সব পন্যই পাওয়া যায়। দোকানের সব নারীই বিক্রেতা। তবে ক্রেতা নারী-পুরুষ সবাই। এসব নারী দোকানিরা বলেন প্রথমে তাদেরকে নিয়ে অনেকেই হাসিঠাট্টা করেছিলেন। কিন্তু তাদের এসব হাসিঠাট্টাতে দমে যাননি তারা। তারা কোনো অন্যায় করছে না বরং উপার্জনের একটা ভাল পথ বের করে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে ভালভাবে দিন কাটাচ্ছে। এসব নারী দোকানিদের কারও স্বামী,কারও ছেলে,কারও বাবা নদী বা সাগরে মাছ ধরেন। হয়ত পরিবারের একজনই উপার্জনক্ষম। তাদের একার উপার্জনের টাকায় সংসার সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু এভাবে আর কতকাল কষ্ট করে, অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন কাটাবে।তাই তাদের পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে অবশেষে গৃহিণীরা দোকান নিয়ে বসেছে।
চরমোন্তাজের নারীদের জন্যই হয়ত কাজী নজরুল লিখে গিয়েছিলেন 'জাগো মাতা,কন্যা,বধূ,জায়া,ভগ্নী.......চির বিজয়িনী জাগো জয়ন্তিকা'।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top