ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমা বেগম, ইতিহাস গড়া বাংলাদেশী নারী।

ফারজানা নিপা, ঢাবি। | প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২০ ২৩:১১; আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২০ ২৩:২৬

ছবিঃ নাজমা বেগম
আরে মেয়ে মানুষের ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কি দরকার! মেয়েদের জন্য টিচিং প্রফেশনই সবথেকে মানানসই। অন্য কোনো প্রফেশনে যেয়ে অফিস সামলাবে কি করে আর ঘর সামলাবে কি করে! কিংবা 'আরে ধুর, মেয়েরা যত বেশি মেধাবীই হোক না কেন এরা ইন্সট্যান্ট কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না'। নারী শক্তিকে ছোট করে এরকম হাজারটা কথার সাথে আমরা কম বেশি পরিচিত। সামরিক কোনো বাহিনীতে মেয়েরা কাজ করবে এটা তো কল্পনাই করতে পারে না এ সমাজের মানুষেরা।
 
বাঙালী নারীদের জাগরণের ঈঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল আমাদের ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে। এ দুই মুক্তির সংগ্রামে নারীদের অসীম ত্যাগ, সাহস এমনকি পুরুষদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। তারপর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে পুরুষতান্ত্রিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিকে মোকাবেলা করে নারীরা স্বগর্বে এগিয়ে যাচ্ছে সমৃদ্ধির সোপানে। যার সুফল আমরা পাচ্ছি ঘরে বাইরে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে। কেননা দিন অনেক বদলে গেছে। পুরুষদের সাথে বাঙালী নারীরা সমানতালে অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য সামলিয়েও আগের মতোই ঘর-সংসার সব ঠিক রাখছে। শুধুমাত্র চাকরি করে নয় বরং ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন এমন এক নারী তার নাম "নাজমা বেগম"
 
গত ৯ই অক্টোবর সেনাবাহিনীর নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিই প্রথম ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। নাজমা বেগম জাতিসংঘের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নারী কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে দুবার জাতিসংঘের লেভেল-২ হাসপাতাল কমান্ড করেন এবং দুবার মিশন এরিয়ায় কান্ট্রি সিনিয়রের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি তার সফলতা দেখিয়েছেন প্রতিটি ক্ষেত্রেই। এ ছাড়া, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে থাকাকালীন তিনি দুটি (বিএএফ বেস জহুর এবং বেস বাশার) মেডিক্যাল স্কোয়াড্রন কমান্ড করেন। এই জায়গাতেও তিনি তার তার মেধা এবং প্রজ্ঞার প্রমাণ রেখেছেন। তার কর্মক্ষেত্রের সফলতার জন্য কুঁড়িয়েছেন ভূয়সী প্রশংসা এবং পেয়েছেন নানান সম্মাননা।
 
নাজমা বেগম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ফোর্স কমান্ডার, এসআরএসজি, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রের সেনাপ্রধান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর প্রশংসাপত্র লাভ করেন। ২০১৬ সালে আইভরিকোষ্টে শান্তিরক্ষা মিশনে বিশেষ অবদান রাখেন নাজমা বেগম। নিজের জীবন বাজি রেখে অকাতরে সেবা দিয়ে গেছেন। ২০১৬ এবং ২০১৯ সালের ‘মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমা বেগমের অবদানের কথা উল্লেখ্য করে মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্রে নিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত (এসআরএসজি) বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কন্টিনজেন্টের অবদান শুধুমাত্র জাতিসংঘ ও স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবার জন্যই সকলে স্মরণ করবে না, বরং সর্বপ্রথম নারী কমান্ডার হিসেবে কর্নেল (তৎকালীন) নাজমার জন্য ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ বাংলাদেশের নারীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন এখন একটি অন্যতম আলোচিত বিষয়। এই ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন সকলের ইতিবাচক মনোভাব।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top