একবিংশ শতাব্দীর চোখে নারী নেতৃত্ব।

নারীকথন | প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২০ ১২:১৫; আপডেট: ২৬ মে ২০২২ ০২:০৮

 

লিঙ্গ সমতা আনয়নের জন্য নারী নেতৃত্ব বা পুরুষ নেতৃত্ব নয় বরং এমন নেতৃত্ব দরকার যে যোগ্য, উপযুক্ত এবং প্রকৃত অর্থেই উন্নত জাতি হিসেবে তার জাতিকে দেখতে চায়। তবে বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপ বলে নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহনের সাথে সার্বিকভাবে নারী-পুরুষের সমতার যোগাযোগ রয়েছে। সুইজারল্যাণ্ডের একটি জরিপে উঠে এসেছে যে, উপযুক্ত নারী আদর্শ থাকলে তা অন্য নারীদেরকেও প্রেরণা যোগায়। কিছু সংখ্যক ছাত্রীকে পৃথক ৪ টি কক্ষে পৃথক চারজন নারী বা পুরুষের ছবি দেখানো হয়েছে, দেখা গেছে যে তারা প্রতিষ্ঠিত, যোগ্য নারীদের ছবি দেখে যতটা অনুপ্রাণিত হয়েছিলো পুরুষদেরটা তাদের ততটা আলোড়িত করতে পারেনি।

একবিংশ শতাব্দীতে এসেও বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে আছে নারী নেতৃত্ব নিয়ে নানান ট্যাবু। এখনো বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের নারীরাই গ্লাস সিলিং ভাঙ্গতে পারেনি। সমান যোগ্যতা থাকার পরও বিশেষভাবে নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোন মানুষের উন্নতির পথে তৈরি করা যে অদৃশ্য বাধা তাকেই ইংরেজিতে বলা হয় ‘গ্লাস সিলিং’। ক্ষমতা এবং লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই শব্দটি। এমন কি সব থেকে সভ্য, উন্নত রাষ্ট্রটি যারা বিশ্ব শাসন করে থাকে তারাও এ ট্যাবু দ্বারা আচ্ছাদিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ পর্যন্ত কোন নারীকে তাদের নেতৃত্বের চূড়ায় দেখতে প্রস্তুত নয়। তাদের এই দৈন্যতা সম্পূর্নটা মানসিকতার।

বর্তমানে সমগ্রবিশ্বের মাত্র ২৬ টি দেশের প্রধান নারী। যাদের মধ্যে ১৯জনই সে দেশের নারী প্রধান হিসেবে প্রথম। জাতিসংঘের ১৯৩ টি দেশের মধ্যে মাত্র ২১ দেশের সরকার প্রধান নারী। যা শতকরা ১১ শতাংশ। জাতিসংঘের ১৯৩ টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৪ টি দেশের ৫০% নারীরা সংসদ সদস্য। বাকিরা এখনো পরে আছে গ্লাস সিলিংয়ের নিচেই।নেতৃত্বের টেবিলে মহিলাদের অন্তর্ভুক্তি স্থিতিশীলতার প্রচার করে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যখন মহিলাদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায় , তখন একটি দেশ সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংকটে পড়ার সম্ভাবনা প্রায় পাঁচগুণ কম থাকে। দেশগুলির মধ্যে।মহিলাদের সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব দেশগুলোয় গৃহযুদ্ধের ঝুঁকির হ্রাসের সাথে, নিখোঁজ হওয়া, হত্যা, রাজনৈতিক কারাবাস এবং নির্যাতনের মতো রাষ্ট্র-নিয়মিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিম্ন স্তরের সাথে জড়িত থাকে। তবুও বিশ্বের সংসদ সদস্যদের মাত্র ২৪% নারী সদস্য। এ দিক থেকে কিছু তৃতীয় বিশ্বের দেশ অনেকটাই অগ্রসরমান।

তবে বিশ্ব ব্যাপিই নারী রাজনীতি বা নারী নেতৃত্ব এখন মেনে নিতে পারেনি উচ্চশিক্ষিত সমাজ থেকে শুরু করে প্রান্তিক শ্রেণীর লোক। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম লিঙ্গ বৈষম্যের ওপর যে রিপোর্ট তৈরি করেছে সেখানে বলা হয়েছে, যেসব দেশে নারীরা রাজনীতিতে জড়িত বেশি সেসব দেশের নারীদের সার্বিক উন্নতিও বেশি হয়। যেসব দেশের চিরাচরিত প্রথা, ট্যবু ভেঙ্গে কোন নারী জয় করতে পেরেছে সে নিজের সাথে সাথে মুক্ত করেছে আরো হাজার নারীকে। নারীর কথা নারীকেই ভাবতে হবে। সকল ট্যবু ভেঙ্গে বিশ্ব আলোকিত হোক সমতার আলোয়।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top