আরো ৬১ জন বীরাঙ্গনা হলেন মুক্তিযোদ্ধা।

আয়েশা আক্তার সুমি, ঢাবি। | প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০২০ ১৯:১১; আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ ১৯:৪৭

ছবিঃ ইন্টারনেট

পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর সঙ্গে নয়মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ফলে জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। সদ্য স্বাধীন দেশের গল্পে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাহিনী স্থান পেয়েছে। ১৯৭১ সালের শেষদিকে স্বাধীনতা অর্জিত হওয়ায় দেশের সকল জনগণ ছিলো আনন্দে উদ্বেলিত। তবে, পাকিস্তানি সেনাদের পরাজয়স্বীকার ও আত্মসমর্পণের পরও অনেক নারীর যুদ্ধ শেষ হয়নি। আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও সেইসব নারীদের কাউকে নির্বাসিত অথবা তাদেরকে ভুলভাবে উপস্থাপিত কিংবা চরম অবমাননার শিকার হতে হয়েছে।

২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ বীরাঙ্গনাদেরকে মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব পাশ করে। ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার প্রথমবারের মতো ৪৩ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।তারই ধারাবাহিকতায় কমুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের হাতে নির্যাতিত আরও ৬১ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার। তাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) গেজেট জারি করা হয়েছে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭০তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বীরাঙ্গনারা এ স্বীকৃতি পেলেন। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া বীরাঙ্গনার সংখ্যা দাঁড়াল ৪০০ জনে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা প্রতি মাসে ভাতাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের মতো অন্যান্য সব সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।

গত ২৯ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামসসহ অন্য সহযোগীদের হাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতিত বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন আহ্বান করে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (এনআইডি/যুদ্ধকালীন কমান্ডারের প্রতিবেদন/স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবেদন, যদি থাকে) জমা দিতে বলা হয়েছে।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top