নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার হতে পারে যে বইগুলি।

আয়শা আকতার সুমি, ঢাবি। | প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০২০ ১৭:২৪; আপডেট: ২১ জানুয়ারী ২০২২ ১৩:৫২

ছবিঃ সংগৃহীত

নারীকে অনুপ্রেরণা দানের জন্য খুব বেশি লেখা না থাকলেও একেবারে যে নেই তা বলা যাবে না। যুগে যুগে নারীকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে মহাকাব্য, সহস্রকবিতা, গান আর গল্প। নারীর সৌন্দর্য কিংবা সংগ্রাম মুখর জীবনকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সাহিত্য। তবে আরও সুনির্দিষ্ট করে শুধু অনুপ্রেরণার জন্য বই লেখা শুরু হয়েছে আধুনিক যুগ তথা বিংশ শতকে এসে। এরকম সেরা ও কালজয়ী বই, যা দেশ, কাল, ভাষা নির্বিশেষে নারীকে প্রেরণা দিয়ে গেছে।

 

১। অ্যানা ফ্রাংক: দ্যা ডাইরি অফ আ ইয়ংগার্ল– অ্যানা ফ্রাংক দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে লেখা অ্যানা ফ্রাংক নামের এক চতুর্দশী ডাচ মেয়ের ডাইরি এটি। ১৩ বছর বয়সী একজন কিশোরী, যার চেনা পৃথিবীটা হঠাৎ করেই বদলে যেতে শুরু করে। অ্যানা ফ্রাঙ্ক, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভিষীকাময় অধ্যায়ের অনেক বড় একজন সাক্ষী। যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অনিশ্চিত দিনগুলোর কথা ডায়েরীতে লিখেছিল নিয়মিতভাবে। সে সময়ের ভয়াবহ দিনগুলো এই কিশোরীর কলমের আঁচড়ে ডায়েরীর পাতায় ফুটে উঠেছে। ডায়েরিটা পড়ে কেঁদে কেটে আকুল হয়েছে গোটা পৃথিবীর মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরুর পর যখন জার্মান নাৎসীবাহিনী ইহুদী হননে মেতেছিল, তখন আনা ফ্রাংকের পরিবার আমস্টারডামের একটি মৃত্যুকুপে ২৫ মাস লুকিয়ে থেকেও নাৎসীদের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি। এই বন্দি জীবনের বর্ণনাই ছিল আনা’র ডায়েরিতে।

 

২। দ্যা সেকেন্ড সেক্স– সিমোন দ্যা বোভোয়ার নারীর জীবন ও পরিচয়কে সবচেয়ে গভীর বিশ্লেষণাত্মক ও বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করেছে দ্যা সেকেন্ড সেক্স বা দ্বিতীয় লিঙ্গ বইটি। তাই যে কোনো নারী পাঠকের জন্য এটি অবশ্য পাঠ্য। মানব সভ্যতায় নারীর ঐতিহাসিক পরিচয় এবং লড়াইয়ের যে অ্যাখ্যান ফরাসী ঔপন্যাসিক ও দার্শনিক সিমন দ্যা ব্যাভোয়ার এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন, এমনটা এর আগে আর কখনও কেউ করেনি। নারীবাদ নিয়ে সর্বকালের সেরা এই বইটি। বাংলায় এই অসাধারণ বইটির অনুবাদ করেন হুমায়ূন আজাদ। নারী নামে তিনি এই বইটি প্রকাশ করেন এবং তার অসাধারণ গদ্যে মূলগ্রন্থের জ্ঞান ও সৌন্দর্য তুলে ধরেন। তাই আসলে নারী এবং দ্যা সেকেন্ড সেক্স দুটি বইই বাঙ্গালি নারীদের পড়া উচিত।

 

৩। দ্যা কনফিডেন্স কোড– কেটি কে ও ক্লেয়ার শিপম্যান দুইজন জার্নালিষ্ট নারী এই বইটি লিখেছলেন। প্রতি পাতায় পাওয়া যাবে আত্মবিশ্বাসী নারীদের ঝলক। কর্মক্ষেত্রে নারীরা কিভাবে এই আত্মবিশ্বাস কে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে এবং সফল হচ্ছে তারই ধারাবাহিক বর্ণনা রয়েছে এই বইতে। নিউইয়র্ক টাইমস বেস্টসেলার এই বইটি পেশাজীবী নারীদের জন্য অবশ্য পাঠ্য।

 

৪। আনবোউড- আ মেমোইর– ওয়াঙ্গেরী মাথেই কেনিয়ার নোবেল বিজয়ী কিংবদন্তী রাজনীতিবিদ, পরিবেশবীদ ও নারী বাদী লেখিকা ওয়াঙ্গেরী মাথেই এর মাস্টারপিস এ বই। এখানে তিনি লিখেছেন নারীর আত্মমর্যাদার গল্প। সত্তুর দশকে যেখানে কেনিয়াতে প্রায় শতভাগ নারী অশিক্ষিত ছিল, তখন তিনি মিশনারি স্কুলে পড়েছেন, বৃত্তি নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরেছেন আমেরিকায়। দেশে ফিরে কেনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বপ্রথম নারী বিভাগীয় প্রধান হয়েছেন। এছাড়াও পরিবেশ আন্দোলন সহ রাজনৈতিক আন্দোলনেও যুক্ত থেকেছেন। কেনিয়ার সবুজ বিপ্লবের পেছনে আছেন এই অসাধারণ নারী। মাথেই তার বইয়ে তার জীবনের ভাঙ্গাগড়া সুকঠিন পথ চলা নিয়েই আলোড়িত করেছেন কোটি কোটি পাঠককে।

 

৫। আ সিংগুলার ওম্যান : দ্যা আনটোল্ড স্টোরি অফ বারাক ওবামা’স মাদার– জেনিস্কট বারাক ওবামা বলেছিলেন, তার ভেতরে যদি ভাল কিছু থেকে থাকে তবে তার সব কৃতিত্ব তার মা স্টানলি অ্যান ডানহামের। বিখ্যাত রিপোর্টার ও সাংবাদিক জেনি স্কট বারাক ওবামার মায়ের জীবনীকার। অপ্রচলিত জীবনাচারণে অভ্যস্ত মা, শিশু বারাক ওবামাকে সর্বোচ্চ স্বাধীন চেতনায় অনুপ্রাণিত করেছিলেন। দুই শতাধিক বন্ধু, সহকর্মীর সাক্ষাতকার ও তাদের কাছে পাওয়া চিঠি, ফটো ও ডাইরি থেকে তথ্যাদি সংগ্রহ করে এই বইটি লেখা হয়। তিনি অ্যামেরিকার ক্যানসাস থেকে শুরু করে ওয়াশিংটন, হাওয়াই থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি ভ্রমণ করেন। মাত্র ৫২ বছর বয়সে তিনি মারা যান। প্রতিভাবান এ সংগ্রামী নারীর জীবন সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।

 

৬। অপারেটিং ইনস্ট্রাকশনঃ আ জার্নাল অফ মাই সন’স ফার্স্টইয়ার– এনিল্যামট এটিও আত্মজীবনী। তবে এনি ল্যামটের দুর্দান্ত গল্প বলার ভঙ্গীতে মনে হবে কোন উপন্যাস পড়া হচ্ছে। একাকী মা হিসেবে নিজের সন্তানের প্রথম বছরের ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করেছেন লেখিকা। মা হিসেবে যে কতটা লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয় সন্তান লালনের ক্ষেত্রে, এবং সব বাধা জয় করে সে লড়াই জারি রাখার যে স্পৃহা তা নিঃসন্দেহে পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়।

 

৭। রেড ওমেন ওয়ার্ল্ডওয়াইড– কেট স্কাটজ এ বইটি মূলত পৃথিবীর সেরা কিছু সফল নারীর জীবনী নিয়ে লেখা। সেই সাথে রয়েছে চমৎকার সব গ্রাফিক্স। মেক্সিকোর কিংবদন্তী চিত্রশিল্পী ফ্রিদা, সর্ববকনিষ্ঠ নোবেলজয়ী মালালা ইউসুফজায়ী সহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে নারী কিংবদন্তীদের জীবনের গল্প বলা হয়েছে প্রাঞ্জল ও চিত্তাকর্ষক ভাষায়



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top