মিডল লাইফের হতাশা পেরিমেনোপজ, মেনোপজ ও পোস্টমেনোপজ।

নারীকথন | প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২০ ২১:৫২; আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২০ ২১:৫২

 

★★পেরিমেনোপজ:
একটি মহিলার প্রজনন জীবনের পর্যায় যা সাধারণত তার চল্লিশের দশকে শুরু হয় (বা কিছু আগেও) এবং পিরিয়ড একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে একবছর স্থায়ী হয়।মানে মেনোপজের আগে শরীরে যে লক্ষণ গুলো দেখা যায় সেটাই পেরিমেনোপজ। পেরিমেনোপজের শেষ এক থেকে দুই বছরে ইস্ট্রোজেনের হ্রাস ত্বরান্বিত হয়। এই পর্যায়ে, অনেক মহিলা মেনোপজাল লক্ষণগুলি অনুভব করেন।

★★মেনোপজ :
মেনোপজ সেই সময়কাল যখন কোনও নারীর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায়, দীর্ঘ একবছর ধরে পিরিয়ড হয় না এবং এস্ট্রোজেন উৎপাদনের অভাব সম্পর্কিত লক্ষণগুলি অনুভত হয়।
মেনোপজ সাধারণত মহিলার ৪০-৫০ বছরের সময়ে ঘটে। তবে, যে মহিলাদের ডিম্বাশয়গুলি,জরায়ু, সার্জারির মাধ্যমে অপসারণ করা হয় তারা “আকস্মিক” মেনোপজ হয়।

★★মেনোপজের কারণ :

বয়সের সাথে সাথে মেয়েদের ওভারি বা ডিম্বাশয়ও বৃদ্ধ হতে থাকে। তখন ডিম্বাশয় থেকে কম পরিমাণে প্রজননকারী হরমোন নিঃসৃত হয়। কয়েকটি হরমোন আছে যেমন এস্ট্রোজেন (estrogen), প্রোজেসটেরন (progesterone), টেস্টটোস্টেরন (testosterone), ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (follicle stimulating hormone) বা এফএসএইচ (FSH), লিউটেনাইজিং (luteinizing) হরমোন বা এলএইচ (LH) এগুলোর নিঃসরণ কমে গেলে শরীর অন্যভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানায়। সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন দেখা যায় সক্রিয় ওভারিয়ান ফলিকলে। এই ওভারিয়ান ফলিকলই ওভারি বা ডিম্বাশয়ের দেওয়াল থেকে ডিম্বাণু মুক্ত করে এবং প্রজনন ক্ষমতা ধরে রাখে। মোটামুটি মধ্য চল্লিশে বা চল্লিশের কোঠার শেষ দিকে ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে যায়। সেটা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। তখন থেকেই মেনোপজের লক্ষণ শুরু হয়ে যায়। ৫২ বছরের মধ্যে বেশিরভাগ মহিলারই মেনোপজ হয়ে যায়।

★★পোস্টমেনোপজ: মেনোপজের পরবর্তী সময় অর্থাৎ যখন কোন নারীর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে যায় তার প্রজনন ক্ষমতার সমাপ্তি ঘটে।ডিম্বাশয় থেকে এস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়।

★★পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময়ে নারীর শারিরীক ও মানসিক পরিবর্তন :
পেরিমেনোপজ এবং মেনোপজের সময় এস্ট্রোজেনের মাত্রা হ্রাসের সাথে সাথে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক এবং মানসিক পরিবর্তন দেখা যায়। এ সময়ে শারিরীক নানান জটিলতার পাশাপাশি নারীরা মানসিক হতাশা বা উদ্বেগে ভুগতে থাকেন। কোনও মহিলার জীবনের অন্য যে কোনও মুহুর্তের মতো হরমোন স্তর এবং শারীরিক এবং মানসিক লক্ষণগুলির মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে।

★★পেরিমেনোপজের সময় শারীরিক পরিবর্তনগুলি হলো:
★পেরিমেনোপজের সময় অনিয়মিতভাবে অনেকদিন পর পর ভারী বা হালকা পিরিয়ড।
★ঋতুস্রাবের ফ্লো (menstrural flow) কমে যাওয়া।
★ভাসোমোটোর সিম্পটম (vasomotor symptoms):
যেমন হট ফ্লাশ (hot flush), নাইট সোয়েট (night sweat) ও ফ্লাশ (flush)।
গবেষণায় দেখা গেছে ৭৫% নারীর মেনোপজের সময় ভাসোমোটোর সিম্পটম দেখা দেয়।

★★মেনোপজের লক্ষণ বা শারিরীক পরিবর্তন:

একেক জন মহিলার ক্ষেত্রে মেনোপজের লক্ষণ একেক রকম হয়। যখন মেনোপজ হঠাৎ করে শুরু হয়ে যায় তখন এই লক্ষণগুলো আরও বেশি করে প্রকট হয়। ওভারির স্বাস্থ্যের সঙ্গে যে অসুখগুলো জড়িত যেমন ক্যানসার, হিসটিরেকটোমি বা জীবনযাত্রার কিছু অঙ্গ যেমন ধূমপান ইত্যাদি মেনোপজের লক্ষণগুলো অনেক তাড়াতাড়ি আমাদের জীবনে নিয়ে আসে। মেনোপজ ছাড়াও পেরিমেনোপজ ও পোস্টমেনোপজের লক্ষণগুলোও মোটামুটি একই রকমের।

★চুল পড়ে যাওয়া,অনিদ্রা,ভ্যাজাইনাল ড্রাইনেস
ওজন বেড়ে যায়,ত্বক, মুখ ও চোখে শুষ্কতা,
বারবার মূত্রত্যাগ,মাথা ধরা,দ্রুত হৃদস্পন্দন,
মূত্রনালীতে সংক্রমণ,গাঁটে ব্যাথা,শক্তি কমে যাওয়া,
হাড়ের ওজন কমে যাওয়া,হাড়ের ক্ষয়,যৌন মিলনের আকাঙ্খা কমে যাওয়া।

★★পেরিমেনোপজন,মেনোপজ ও পোস্টমেনোপজের সময়ে মানসিক জটিলতা :
এসময়ে নারীরা হতাশা,উদ্বিগ্নতা,বিষন্নতা, খিটখিটে মেজাজ, অমনোযোগীতা,স্মৃতি দুর্বলতা,হীনমন্যতা,মুড সুইং সহ নানান মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হয়।নারীদের মিডল লাইফ ক্রাইসিস হলো মেনোপজ।

★★মেনোপজের লক্ষণগুলি সহজ করতে এবং আপনার স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারে এমন অনেকগুলি উপায় রয়েছে । এই টিপসগুলির মধ্যে মেজাজের পরিবর্তন, ভয় এবং হতাশার সাথে লড়াই করার উপায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

★স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা।
★একটি সৃজনশীল আউটলেট বা শখের সাথে জড়ানো যা কৃতিত্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
★অনুশীলনের জন্য একটি স্ব-শান্ত করার দক্ষতা সন্ধান করা- যেমন যোগা , ধ্যান বা ধীর, গভীর শ্বাস।
★গরম ঝলকানোর সময় শীতল থাকার জন্য ঢিলে পোশাক পড়া।
★রাতের ঘাম এবং বিশ্রামহীন ঘুম রোধ করতে শয়নকক্ষটি শীতল ও শান্ত রাখা।
★যখন প্রয়োজন হয় তখন বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা কোনও পেশাদার পরামর্শদাতার কাছ থেকে সংবেদনশীল সমর্থন নেয়া,পরামর্শ নেয়া।
★পরিবার এবং সম্প্রদায়ের সাথে সংযুক্ত থাকা বন্ধুত্বকে লালন করা।
হীনমন্যতায় না ভুগে মেনোপজকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে মেনে নেয়া।
★ ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে ওষুধ, ভিটামিন এবং খনিজগুলি গ্রহণ করা।

একজন নারীর যেমন জন্মগ্রহণের পরেই মাতৃত্বের স্বাদ নেয়া সম্ভব হয়না,শরীরের বৃদ্ধির সাথে সাথে হরমোনের পরিবর্তনের ফলে একটা নির্দিষ্ট বয়সে,নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা ঘটে তেমনি প্রকৃতির নিয়মেই আবার একটা নির্দিষ্ট সময় মতো সে হরমোন গুলো আবার পরিবর্ততীত হয়।এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি একটি সর্বজনীন ও ন্যাচারাল প্রক্রিয়া। তাই এই সময় গুলোতে নারীদের নিজেদের সচেতন থাকতে হবে,জানতে হবে এবং নারীর চারিপাশের সবাইকেও এটা সহজভাবে মেনে নিয়ে নারীকে মানসিক ভাবে সাপোর্ট দিতে হবে যাতে এ সময়গুলোতে তিক্ত তাদের জীবন তিক্ত হয়ে না ওঠে।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top