১০ অক্টোবরঃ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস।

নারীকথন | প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২০ ১৯:২১; আপডেট: ৬ ডিসেম্বর ২০২১ ০৭:৫৬

 
আমাদের সকলকেই জীবনের কোনও না কোনও সময়ে সাময়িক ভাবে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হয়। ব্যক্তিগত বা কর্মজীবনের চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক সময়েই মানসিক অবসাদ এবং উদ্বিগ্নতার শিকার হতে হয়। যখন আমরা দেখি আমাদের স্বাভাবিক কাজগুলি ব্যাহত হচ্ছে, তখনই মানসিক অসুস্থতার প্রশ্নটি সামনে আসে। আজ ১০ অক্টোবর,মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। শনিবার (১০ অক্টোবর) সারাবিশ্বে পালিত হতে হচ্ছে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য: অধিক বিনিয়োগ-অবাধ প্রবাহ।’
 
শুক্রবার মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক রোগীকে পারিবারিক ও সামাজিক সমর্থন দেয়া খুবই জরুরি। অন্যান্য রোগের ন্যায় মানসিক রোগেরও আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা রয়েছে। ঝাড়ফুক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি পরিহারে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
 
মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার মানসিক স্বাস্থ্য সেবাসহ সকল ধরনের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এবং আপামর জনগোষ্ঠীর মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার অবারিত সুযোগ সৃষ্টিতে আরো মনোযোগী হতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিও আহ্বান জানান তিনি । শেখ হাসিনা বলেন, শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন উন্নত জীবন ও সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার জন্য অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার ২০০১ সালে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে, যা ছিল মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অগ্রগতিতে একটি মাইলফলক।
 
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস হলো পৃথিবীর সকলের মানসিক স্বাস্থ্যশিক্ষা, সচেতনতার দিন। এটি ১৯৯২ সালে প্রথম পালন করা হয়। কিছু দেশে একে মানসিক রোগ সচেতনতা সপ্তাহের অংশ হিসেবে পালন করা হয়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে কেউ না কেউ আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারান। আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। অধিকাংশ ব্যক্তিই আত্মহত্যার সময় কোনো না কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকেন।
সাধারণত সেটা গুরুত্ব দেয়া হয় না বা মানসিক রোগ নিশ্চিত হলেও যথাযথ চিকিৎসা করা হয় না বলেই আত্মহত্যা বেড়ে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে আত্মহত্যার এ হার কমিয়ে আনা সম্ভব।
 
দিবসটি সামনে রেখে তিন দিন আগে ডব্লিউএইচও বৈশ্বিক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়েই মারাত্মক সংকটে পড়েছে মানসিক স্বাস্থ্য। করোনার কারণে সব বয়সী মানুষ মানসিকভাবে বিপদগ্রস্ত হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ডব্লিউএইচওর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ মানুষ যেকোনো রোগের শুরুর দিকে মানসিক কষ্টে পড়ে যান। তা ছাড়া করোনাকালে সামাজিক দূরত্ব মানতে গিয়েও মানসিক সমস্যায় ভুগছে বহু মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, একশ কোটির কাছাকাছি মানুষ মানসিক সমস্যায় ভোগে। কিন্তু খুব কম মানুষই একে গুরুত্ব দেয়। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৭ শতাংশ ফরাসি মানসিক সমস্যা নিয়ে কথাই বলতে চায় না। জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের লোকজনের অবস্থাও প্রায় একই।আর আজ থেকে একটি ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সব খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ক্যাম্পেইনটির নাম রাখা হয়েছে ‘মুভ ফর মেন্টাল হেলথ : লেট’স ইনভেস্ট’
 
এদিকে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে ‘কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যঃ বিনিয়োগ করুন’ শীর্ষক সেমিনার আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপর ২টা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাব ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিলস্ ও সাজিদা ফাউন্ডেশনের এর যৌথ উদ্যোগে এবং এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের সহযোগীতায়। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে গুরুত্বারোপ ও প্রয়োজনীয়তা, সকলের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সকল পর্যায়ে এর প্রচার ও প্রসার বিষয়ে সুপারিশমালা প্রণয়নসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের দায়িত্ব নিরুপণ করাই এ সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top