নিজেকে গড়তে এই ছুটিতেও থেমে নেই শান্তা।

জাকিয়া ইসলাম শান্তা | প্রকাশিত: ১১ নভেম্বর ২০২০ ১৯:০৪; আপডেট: ৬ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৫৭

জাকিয়া ইসলাম শান্তা।

টাঙ্গাইলের মিষ্টি মেয়ে শান্তা। পুরো নাম জাকিয়া ইসলাম শান্তা। দেখতে যেমন মিষ্টি গুণেও তেমনি। এককথায় রূপে গুণে অনন্যা। আজ জানব করোনাকালীন সময়টাতে প্রিয় প্রাঙ্গন ছেড়ে কিভাবে সময় কাটাচ্ছে-

বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বোধহয় আমার বিভাগেই(অপরাধ বিজ্ঞান) কম ক্লাস হতো যার সুবাদে আমরাই ছিলাম সবচেয়ে সুখী ছাত্র ছাত্রী অতো ক্লাস করার ঝামেলা ছিল না বলে। এইজন্য সকাল ১১ টা বা ১২ টায়ও ঘুম থেকে উঠলে অসুবিধা ছিলনা । হল লাইফ বেশ ভালোই কাটছিল ,বন্ধুদের সাথে আড্ডা, একসাথে ক্লাস এটেন্ড করা, টি এস সি,কার্জন,কলা ভবন, শ্যাডো, ভিসি চত্বরে ঘুরে বেড়ানো, টিউশনে যাওয়া সবকিছু শুধু অভ্যাস না ভালোবাসা ভালোলাগা দুটোই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এসব যে একদিন এমন ভাবে থমকে যাবে তা কেউ কখনো কল্পনা করতে পেরেছিলো? বোধহয় না। কিছু টা আভাস পাচ্ছিলাম হয়তো বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দিবে সত্যি বলতে তখন মনে মনে একটু খুশিই হয়েছিলাম এটা ভেবে যে যাক একটু লম্বা ছুটি পাবো। কিন্তু তাই বলে যে এত লম্বা হবে সেটা বুঝতে পারিনি।

মার্চ মাসটাই হলে কাটানো শেষ মাস ছিল তারপর বাড়ি চলে আসা। একদিন দুই দিন যেতে থাকে আর ভাবি এই তো আর কয়দিন পরই বিশ্ববিদ্যালয় খুললো বলে! সেই একদিন দুই দিন আর শেষ হতে চায় না। আস্তে আস্তে মহামারী আরও ভয়ানক হয়ে উঠছে আর এদিকে অফুরান সময় হাতে। করোনাবন্দী সময় গুলো তে সবার মুখে বিরক্তিকর কথা শুনলেও আমি একটু ভিন্ন কথাই বলবো। প্রায় ৮ মাসের এই দীর্ঘ সময়ে হাতে গোনা দুই একদিন ছাড়া খুব একটা বিরক্তি কাজ করেনি আমার মধ্যে। তার কারণ ছিল বিভিন্ন কাজ এর মধ্যে ডুবে থাকা। করোনাকালীন সময়টাতে আমার বেশির ভাগ সময় যাচ্ছে টিভি দেখতে দেখতেই। সত্যি কথা বলতে কি হলে থাকাকালীন সময়ে সারাদিন ফোন নিয়েই সময়টা কাটিয়েছি কিংবা হলে থাকাকালীন সময়ে খুব একটা টিভি দেখার সুযোগও হয়ে উঠত না, এখন অবশ্য যে ফোন নিয়ে থাকি না তা কিন্তু না। তবে শান্তিতে টিভি সিরিয়াল দেখতে পাচ্ছি এটাই বা কম কিসে! তাছাড়া বাড়িতে বসে মায়ের হাতের মজার মজার রান্নার স্বাদ আস্বাদন করতে পারছি এটাও বা কম কিসে!

তবে এর মধ্যে প্রোডাকটিভ যে কাজগুলো করেছি তা হলো হস্তশিল্পের কাজ শেখাটা। এই কাজটা আমি আমার এক প্রতিবেশীর দ্বারা উৎসাহিত হয়ে শেখা শুরু করেছি। ওয়ালমেট আর পাপোশ বানানোর চেষ্টা করেছিলাম তা আদৌ হয়েছে কিনা তা আর না বলি। অনলাইন ক্লাস সমাচার! এটি লকডাউন অথবা করোনাকালীন সময়ের অন্যতম একটি বিরক্তিকর জিনিস যেটি এই অপার সময়গুলোর সিংহভাগই কেড়ে নিয়েছে। ডিপার্টমেন্টের পড়াশোনা, একটার পর একটা এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশনও করতে হয়েছে বা হচ্ছে এই সময়গুলোতে। এছাড়াও যেহেতু একটা বেশ লম্বা ছুটি পেয়েছি তাহলে কেন আমরা আমার তথ্য ভান্ডার, জ্ঞানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবো না? আমরা সচরাচর এরকম সময় কিংবা সুযোগ পাই না ঢাকায় থাকতে। সারাক্ষণ ক্লাস, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন এই করে করেই সময় টা চলে যেত আর আমি হাপিত্যেস করতাম। কিন্তু আমি এই সুযোগটাকে খুব ভালোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।

বই পিডিএফ যা পেয়েছি পড়ে নিজেকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। নিজের দেশ,অন্যান্য দেশ, কারেন্ট ইস্যু সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করেছি। আমি আরো একটা কাজ করেছি তাহলো অংকটা নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি। যেহেতু চাকরির বাজারে এদের আধিপত্য রয়েছে। তাই এখন পর্যন্ত এই কাজটাই করে চলেছি। সত্যি বলতে করোনাকালীন বেশির ভাগ সময়ই আমার টুকটাক পড়াশোনা করতে করতেই কেটে যাচ্ছে এবং আমি এটাকে বেশ উপভোগ করছি। নতুন কিছু জানলে নতুন কিছু শিখতে পারলে এক ধরনের আত্মতৃপ্তি অনুভব হয় যা আমি এই অবসর সময়গুলোতে ভালোভাবে  উপলব্ধি করেছি। তবে যত সুন্দর সময়ই কাটাই না কেনো মনের ছোট্ট কোণটাতে কিন্তু একটা কথাই বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে যে কবে এই মহামারীর সময়গুলো শেষ হবে। বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে আবার সেই হারিয়ে যাওয়া আনন্দ করে কাটানো সময়গুলোতে ফিরে যাবো! আর গেয়ে উঠব- "মোরা সুখের দুখের কথা কব প্রাণ জুড়াবে তায়। মোরা ভোরের বেলা ফুল তুলেছি, দুলেছি দোলায়, বাজিয়ে বাঁশি গান গেয়েছি বকুলের তলায়। হায় মাঝে হলো ছাড়াছাড়ি, গেলেম কে কোথায় আবার দেখা যদি হলো, সখা, প্রাণের মাঝে আয়।"



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top