যৌন শিক্ষা VS যৌন শিষ্ঠাচার

নারীকথন | প্রকাশিত: ৬ অক্টোবর ২০২০ ২০:২৮; আপডেট: ৬ অক্টোবর ২০২০ ২০:৫৫

ছবিঃ ইন্টারনেট
মানুষের বসবাস তার শরীরে। সে পুরুষ হোক কিংবা নারী। দীর্ঘদিন ধরে এই শরীর কে অগোচরে রেখে তৈরি হচ্ছে বিকৃতি। এইসকল বিকৃতি রোধে এখন বহুল ব্যবহৃত এক জোড়া শব্দ হচ্ছে- সেক্স এডুকেশন বা যৌন শিক্ষা। শুধু ইতিবাচক ভাবে এই বিষয়টি দেখা গেলে বিষয়টি সত্য, সহজ ও সুন্দর। কিন্তু একপাক্ষিকভাবে বিষয়টি ভিন্ন ধারায় কিছুটা চলে গিয়েছে। সেক্স এডুকেশন কাকে বলে এই প্রশ্নের উত্তর যদি দেয়া যায় বই থেকে বা ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়ে তবে তা দাড়ায়- যৌন শিক্ষা হল যৌনতা সম্পর্কিত বিষয়গুলোর নির্দেশনা সহ মানসিক সম্পর্ক সেই সাথে দায়িত্ব, মানব যৌন শারিরবৃত্ত ক্রিয়াকলাপ ও প্রজনন,প্রজনন স্বাস্থ্য, নিরাপদ লিঙ্গ, জন্ম নিয়ন্ত্রণ, যৌন সম্মতির বয়স এবং যৌনত্যাগকে বুঝায়।
 
কিন্তু আদতে আমরা সেক্স এডুকেশন বলতে বুঝি কীভাবে যৌন মিলন করতে হবে বাচ্চাদের সেই শিক্ষা দেয়া। কিন্তু দুই মতামতের পার্থক্য থেকে আমরা বুঝতে পারি আমরা যা লালন করি তার থেকে কত দূরে এই শিক্ষার অবস্থান। সেক্ষেত্রে নামকরণ একটা বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এখানে যৌন শিক্ষার চেয়ে যৌন শিষ্টাচার শব্দটা সবচেয়ে বেশি মিলে যায়। বর্তমান পরিস্থিতি গুলো বিবেচনা করলে একটা বিষয় পরিস্কার হয়ে যায় যে এখন সচেতনতা সামগ্রিক ভাবে দরকার। শুধু ছেলে মেয়েদের এই বিষয় গুলো সচেতন করে আমরা এই বিকৃত মন মানসিকতা থেকে পরিত্রান পাবোনা। কাজেই এই শিষ্ঠাচার গুলো শেখা ও চর্চার জন্য কিছু বিষয়ে আমরা একবার চোখ বুলাতে পারি।
 
১. নিজেকে জানা পৃথিবীর প্রতি দায়বদ্ধতার আগে নিজের সম্পর্কে নিজের দায়বদ্ধতা সবচেয়ে বেশি। নিজেকে সবার আগে নিজের এক্সপ্লোর করা উচিত এই ধারণা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যৌন শিষ্ঠাচার বিষয়টি পুরোটাই মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি এবং আবেগের বাহ্যিক রুপ। ছোট থেকেই যদি বাচ্চাদের এই ব্যপারে সচেতন করা যায় তবে এই জায়গা বিক্ক্রিত হওয়ার সুযোগ খুব কমে আসবে।
 
২.ঠিক / ভুল সমসাময়িক সময়ে কোন সমস্যা আমাদের চোখের সামনে পড়লে স্বাভাবিক ভাবেই সকলে একটি গা বাচানো বিষয় নিয়ে চলে। যার ফলাফল আমরা তার কিছু সময় পরেই খুব বাজে ভাবে আমাদের সামনে দেখতে পারি। যৌন শিষ্ঠাচারের মাধ্যমে ছোট থেকেই একটা বাচ্চা কে যদি ভুল ঠিকের সীমানা দিয়ে দেয়া যায় তবে তারা অস্বাভাবিকতা ধরতে পারবে এবং তারা নিজেরাই এসব নিয়ে কথা বলতে পারবে।
 
৩.মেয়ে মানুষ/মানুষ মেয়ে রা মানুষ। তারা সন্তান উৎপাদন এর যন্ত্র না, তাদের শুধু কাজই ঘরের মধ্য না। তার নিজের চিন্তা চেতনা, স্বাধীনতা, ভালোমন্দ বিচারের ক্ষমতা তার নিজের। ছোট থেকে বাচ্চাদের আলাদা করে ছেলে বা মেয়ে বুঝানোর আগে তাদের বুঝাতে হবে তারা একেকজন মানুষ।
 
৪. নিজের ঘরে নিরাপত্তা এই পুরো বিষয়টি ঠিক করে দিতে হবে বাচ্চার বাবা মায়ের। একটা মেয়ের জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হল নিজের ঘরে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া। গড়ে ৭৫ ভাগ শিশু নিজ বাড়িতে এমন বিকৃত আচরনের শিকার হয়, এই বিকৃত আচরন প্রথম দিকে বাচ্চারা আদর ভেবে নিলেও পরে একটি গা ঘিনঘিন করা ব্যপার নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দিতে হয়। 
 
৫. ব্যাড টাচ / গুড টাচ বাচ্চা কে একটি নির্দিষ্ট সময় পর ই ঠিক করে দেয়া তার আশেপাশের দেয়াল শুধু তার নিজের এবং বাবা মা ভাই এর জন্য। এর বাইরে কেউ যেন এই দেয়ালের ভিতর ঢুকতে না পারে। বাবা মা ব্যতীত অন্য কোন আত্মীয় বা পরিবারের সামনে উলঙ্গ হওয়া যাবে না বা জামা কাপড় বদলানোও উচিত হবেনা। এবং সে ছোট এজন্য কিছু বুঝবেনা এজন্য তার সামনে কেউ কোন অশোভন আচরন করবেনা, বাচ্চার বাবা-মাও তাদের যৌন জীবন নিয়ে এইক্ষেত্রে সচেতন হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় বাচ্চার শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পর্কে জানাতে শুরু করতে হবে এবং এসব জায়গায় কতটুকু তে কিভাবে অন্যরা বাচ্চাকে আদর করবে সেই বিষয় আস্তে আস্তে বাচ্চাকে গল্পের মতো করে বুঝিয়ে বলা যেতে পারে।
 
তবে বড় হওয়ার সাথে সাথে এই শিষ্ঠাচার শিক্ষা ব্যপ্তি ও আকার বদলায়। বয়সভেদে উপযুক্ত এবং পরিবেশভেদে তাদের শিষ্ঠাচার শিক্ষা দেয়াই প্রধান লক্ষ্য। বাল্যবিবাহ এবং গর্ভবতী মায়েদের মৃত্যু হার অনেকাংশে কমে গেছে। যৌন শিষ্ঠাচারের শিক্ষা যদি প্রতিটা স্কুলে বয়সভেদে ঠিক করে দেয়া যায় এটা আরো ফলপ্রসূ একটা প্রভাব ফেলবে।
 
লেখাঃ আয়েশা সুমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top