ইতিহাসের প্রথম নারী গণিতবিদ - হাইপেশিয়া।

মাকসুদা আকতার তমা, ঢাবি | প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৯:০৩; আপডেট: ২৮ নভেম্বর ২০২০ ১৯:১৩

ছবিঃ ইন্টারনেট

"ম্যাথের মতো কাঠখোট্টা সাবজেক্ট আবার মেয়েদের জন্য নাকি?"

-একাবিংশ শতকের এই দিনে এসেও গণিতে অনার্স মাস্টার্স করা অনেক মেয়েকেই এরকম উক্তি শুনতে হয়।

তাহলে এখন কল্পনা করুন তো,আজ হতে শত শত বছর পূর্বে যখন মেয়েদের জন্মই একরকম পাপের ফল ধরা হতো সেই সময়কার একজন মেয়ে কিভাবে গণিতবিদ হয়ে উঠে?

বিজ্ঞানের ছাত্ররা মোটামুটি সবাই পরাবৃত্ত,উপবৃত্ত, অধিবৃত্তের সাথে পরিচিত। কিন্তু কণিকের এই শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন যে নারী তার নাম আমর কিঞ্চিৎ ই জানি কিংবা স্মরণ করি।

কালজয়ী এই নারীই ছিলেন পৃথিবীর প্রথম নারী গণিতবিদ। পাশাপাশি তিনি অবদান রেখেছেন জ্যাোতির্বিদ্যা ও দর্শনশাস্ত্রে।মাদাম কুরির আগে তাকেই বিশ্বের সর্বাধিক সফল নারী বিজ্ঞানী ধরা হয়।

এই মহান নারী চরিত্রের নাম "হাইপেশিয়া"।গল্পের কোনো চরিত্র নয় বরং বাস্তবে তাকে সবাই আলেক্সান্দ্রিয়ার হাইপেশিয়া নামেই বেশি চেনে।এবং একই সাথে উঠে আসে তার জীবনের করুণ পরিণতির গল্প।

হাইপেশিয়ার  জন্ম আনুমানিক ৩৭০খ্রিস্টাব্দে। তার  বাবার নাম থিওন। হাইপেশিয়ার মায়ের সম্পর্কে ইতিহাস ঘেটে সঠিকভাবে  জানা যায় না। হাইপেশিয়ার বাবার কাছ থেকেই হাইপেশিয়া বিজ্ঞান, গণিত ও দর্শনে হাতে খড়ি পান।  হাইপেশিয়াকে বলা হয় প্রথম নারী গণিতবিদ যার ব্যাপারে ইতিহাসবিদগণ গভীরভাবে জানতে পেরেছেন।হাইপেশিয়ার বাবা ছিলেন আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক । পরবর্তীতে তিনি আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদে আসীন হন।

হাইপেশিয়া তাঁর বাবার ছায়ায় বেড়ে উঠেছিলেন একটা শিক্ষাসুলভ আর আবিষ্কারমুখর পরিবেশে । সে কারণেই  তাঁর মাঝে জ্ঞানবিজ্ঞান, দর্শনচিন্তা, মুক্তবুদ্ধির চর্চাগুলো গড়ে উঠেছিল।  গণিত আর জ্যোতির্বিজ্ঞানকে ধারণ করে নিয়েছিলেন হাইপেশিয়া তার মনের মাঝে । চোখের সামনে ধরা দিতে লাগল যুক্তির অপার সৌন্দর্যের জগত।   আলেকজান্দ্রিয়ার জাদুঘর আর লাইব্রেরীতেই তিনি তার জ্ঞানকে ক্রমশ বিকশিত করেছেন । একটা সময়    জ্ঞানে ও যশে তিনি ছাপিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর বাবাকেও! যে কারণে হাইপেশিয়া হলেন ইতিহাসে একজন নারী গণিতবিদ আর থিওন হাইপেশিয়ার বাবা হিসেবে পরিচিত।

থিওন  বাবা হিসেবে তাঁকে সব ধরনেই শিক্ষাই দিয়েছিলেন । শারীরিক, মানসিক, গ্রন্থগত সব বিদ্যাই মেয়েকে রপ্ত করিয়েছেন ভালোভাবে । জানা যায়  সাঁতার, ঘোড়া চালানো  , পর্বতারোহণ এবং এরকম প্রতিটা দিনের একটা নির্ধারিত সময় তাঁর এ ধরনের শারীরিক শ্রমের জন্য বরাদ্দ ছিল। মেয়ে হিসেবে জন্মালেও বাবা তাঁর মেয়েকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে ছিলেন।

 

অবদানঃ

হাইপেশিয়া এপোলোনিয়াসের কনিক এর উপর একটি বই লিখেন। তিনি অধিবৃত্ত , পরাবৃত্ত আর উপবৃত্তের আরো সহজে বোধগম্য উপস্থাপনা করেন। এপোলোনিয়াস ছিলেন আরেক খ্যাতিমান আলেকজান্দ্রিয়ান তাঁর চেয়েও পাঁচশ বছর আগের সময়কার। ডায়োফেন্টাসের এরিথমেটিকার উপর লেখা হাইপেশিয়ার ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থটির- টিকে থাকার সপক্ষে যথেষ্ঠ প্রমাণ পাওয়া যায়। ডায়োফেন্টাসের বীজগণিত মূলত একঘাত ও দ্বিঘাত সমীকরণ সংক্রান্ত সমস্যার উপর আলোকপাত করে; যেখানে হাইপেশিয়া বেশ কিছু বিকল্প সমাধান এবং নতুন সমস্যাবলীর অবতারণা করেন।

তাঁর আরও একটি মূল রচনা On the Astronomical Canon of Diophantus . এছাড়া টলেমির জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক কাজের ওপর হাইপেশিয়ার আলোচনা গ্রন্থ ছিল । টলেমীর Almagest বই উপর লেখা তাঁর পিতার বিশ্লেষণধর্মী একটি গ্রন্থ লিখেছিলেন থিওন। হাইপেশিয়া সেটির সম্পাদনা করেন, যখন তার বয়স মাত্র ১৯ ! Almagest হচ্ছে তের খন্ডের সেই বিশাল গ্রন্থ যাতে টলেমী তাঁর সমসাময়িক যাবতীয় গণিত ও মহাকাশ জ্ঞান সংকলিত করেন। আরবীয় পণ্ডিতরা এই বইটির নামকরণ করেন Al-kitabul-mijisti বা মহান গ্রন্থ।

কেবল গবেষণা বা লেখক হিসেবে নয়,হাইপেশিয়ার সুখ্যাতি ছিল শিক্ষক হিসেবেও।

ভলটেয়ার হাইপেশিয়ার অবদান উল্লেখ করেছিলেন তাঁর Dictionnaire Philosophique বইয়েও। তিনি সেখানে হাইপেশিয়াকে একজন সম্মানিত শিক্ষক এবং বিজ্ঞানী হিসেবে উল্লেখ করেন আর সিরিলকে হত্যার আভিযোগে সরাসরি অভিযুক্ত করে বলেন, ‘সিরিল তাঁর খ্রীষ্টিয় আক্রোশ হাইপেশিয়ার উপর ঝেরে দিলেন।’

রোম, এথেন্স এবং আরো বড় বড় শহর থেকে আলেকজান্দ্রিয়াতে ছাত্ররা আসত তাঁর গণিত ও দর্শনশাস্ত্রের বক্তৃতা শুনতে! সমাজের মাঝে গণিত আর জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চাটা মহান কিছু। আর এই প্রাচীন সময়টাতে তা যখন একজন নারীর মাঝে পাওয়া গেল তা নিশ্চয়ই আরো বিরাট কিছু!

তিনি একটি হাইড্রোমিটার আবিষ্কার করেছিলেন যা দিয়ে তরলের আপেক্ষিক গুরুত্ব মাপা যেত। Astrolabe নামে আরেকটি যন্ত্র ব্যবহৃত হত সূর্য ও নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয়ে এবং রাশিচক্রের আরোহণকারী চিহ্ন হিসেব করতে। হাইপেশিয়া যন্ত্রটিকে এতই সূক্ষ্ম করেন যে এটি গোলীয় জোতির্বিদ্যার যথার্থ সমাধান দিত। Astrolabe তৈরিতে তাঁর এক ছাত্র তাঁকে সহায়তা করেন।

 

মর্মান্তিক মৃত্যুঃ

সভ্যতা,সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের এই যুগে এসেও যখন মৌলবাদীদের আগ্রাসনে থেমে যেতে হয়; সেখানে আরও শত বছর পূর্বের অবস্থা যে আরও ভয়াবহ হবে এটাতো সুনিশ্চিত। 

যুগে যুগে সকল ধর্মই এরকম মৌলবাদী-চরমপন্থীদের জন্ম দিয়েছে।তা সে ইসলাম ধর্মই হোক কিংবা খ্রিষ্টান। 

এরই ফল ভোগ করতে হয় যুগের সব সৃষ্টিশীল মানুষকে। যার অন্যতম নজির হাইপেশিয়া।

তার বিচক্ষণতা আর বিচার বুদ্ধি সমাজে এতটাই প্রভাব বিস্তার করেছিলো যে নগরপাল অরিস্টিস (Orestes) হাইপেশিয়ার মতামত না নিয়ে কোন কাজ করতেন না ৮। এই সমৃদ্ধি আর স্বীকৃতিই বোধ হয় হাইপেশিয়ার কাল হল! ‘তুচ্ছ নারী’র মেধা, মনন আর জ্ঞান অনেক সময়ই পরাক্রমশালী পুরুষতন্ত্রের কাছে নিতান্ত অসহনীয়। তার মধ্যে আবার সে নারী যদি হয় বিজ্ঞানমনস্ক মুক্ত-বুদ্ধির চর্চাকারী, রাজনীতি সচেতন এক স্বাধীনচেতা রমণী! আমেরিকান বিজ্ঞানী জন উইলিয়াম ড্রাপার ( J.W.Draper) স্পষ্ট করেই বলেন, ‘হাইপেশিয়া ছিলেন ধর্মের বিপরীতে বিজ্ঞানের নিবিড় সমর্থক।’ হাইপেশিয়াকে ড্রাপার দেখেছেন সেসময়কার ইউরোপীয় সভ্যতার বিদ্যমান দুটি ধারার সংঘর্ষে এক বিরোচিত নিয়ামক চরিত্র হিসেবে ১২। দুটি ধারার একটি হচ্ছে মুক্ত বুদ্ধির চর্চা সমৃদ্ধ ‘লিবারেল’ ধারা আর একটি হল কট্টর-পন্থী ধর্মান্ধ ‘পুরিতানিক’ ধারা। হাইপেশিয়ার অনেক বক্তব্যই ছিলো গোঁড়ামী বিরোধী আর মুক্তবুদ্ধির প্রতি সমর্থনসূচক, যা নিঃসন্দেহে কট্টরপন্থিদের উষ্মার কারণ ঘটিয়েছিলো।

 

হাইপেশিয়া তাঁর এক শিষ্যকে বাইবেল সম্পর্কে বলেছিলেন :

‘আমি খ্রীষ্টান নই। কিন্তু বাইবেলের প্রাচীন ও নবীন দুটো খন্ডই আমি পড়েছি। আব্রাহাম ইয়াকুব ইউসুফ ধর্মই বল, আর যীশু খ্রীষ্টের ধর্মই বল, অহঙ্কার না করেও আমি বলতে পারি, ও দুটি মর্মই আমি উপলব্ধি করেছি। বিশ্বাসের কথা, ঈশ্বরের প্রেমের বাণী ও-দূটিতে আছে ঢের কিন্তু দার্শনিকের দৃষ্টিতে ওসব বালকসুলভ উচ্ছ্বাস ছাড়া আর কিছু নয়। পরিণত বুদ্ধির জাতির জন্য থাকা উচিৎ যুক্তি-নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক ধর্ম একটা, যা ছিলো গ্রীকদের, যার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্কল্প নিয়ে আমি যথাসাধ্য কাজ করে যাচ্ছি আলেকজান্দ্রিয়ায় বসে।’

 

এ ধরনের স্বচ্ছ কথাবার্তা যে যুগে যুগে মৌলবাদীদের ক্ষিপ্ত করেছে তা বলাই বাহুল্য।

চার্লস কিংসলের উপন্যাস Hypatia and or the New Foes with an Old face (১৮৫৩) থেকে জানা যায়, বিশপ সিরিল খ্রীষ্টান ধর্মানুরাগী তরুণদের হাইপেশিয়ার বক্তৃতা শুনতে যেতে নিরুৎসাহিত করতেন। তার ভয় হত যে, হাইপেশিয়ার প্রবল ব্যক্তিত্ব আর তীক্ষ্ন যুক্তির কাছে খ্রীষ্ট ধর্মের দার্শনিক ভিত্তির দুর্বলতাটুকু প্রকাশিত হয়ে পড়বে। উপন্যাসে দেখা যায়, সিরিলের প্রিয় এক তরুণ খ্রীষ্টান সন্ন্যাসী ফিলামন (Philammon) হাইপেশিয়ার সভায় যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করলে সিরিল হাইপশিয়াকে তাঁর সামনে তুলে ধরেন এভাবে : ‘হাইপেশিয়া হচ্ছেন সাপের চেয়েও ধূর্ত আর সব ধরনের চালাকিতে ওস্তাদ আর যুক্তিতে পটু।’ আর সিরিল ফিলামনকে এই বলে সাবধান করেন যে, ‘তুমি যদি ওখানে যাও তবে নিজেকে ঠাট্টার পাত্র বলে মনে হবে, আর লজ্জায় তুমি পালিয়ে আসবে’।

হাইপেশিয়াকে হত্যা করা হয় ৪১৫ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসে।এক সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবার পথে একদল সন্ন্যাসীর হাতে আক্রান্ত হন হাইপেশিয়া। তারা তাঁকে টেনে হিঁচড়ে হেঁচড়ে নিয়ে যায় চার্চ সিজারিয়ামে, ঝিনুকের খোল দিয়ে তাঁর দেহের চামড়া চেঁছে ফেলে। টুকরো টুকরো করে কেটে বিভক্ত করে ফেলে দেহ। এখানেই থেমে থাকে নি তাদের পাশবিকতা। তাঁর মৃত দেহটুকরা পুড়িয়ে ছাই করে উড়িয়ে দেয়া হয়! যেন কতটা বিষময় ছিল তাঁর বেঁচে থাকা তাদের কাছে!

হাইপেশিয়ার হত্যাকারীদের তালিকায় ছিলো মূলতঃ সিরিলের জেরুজালেমের চার্চের প্যারাবোলানস, মৌলবাদী সন্ন্যাসী, নিটৃয়ান খ্রীষ্টীয় ধর্মবাদীরা ৫। তবে সিরিল নিজ মুখে তার সাংগপাংগদের হাইপাশিয়াকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা তা অবশ্য বিতর্কের উর্ধ্বে নয়। কিন্তু এটি অন্ততঃ নিঃসন্দেহ যে, সিরিল এমন এক ধরনের রাজনৈতিক বাতাবরণ তৈরী করতে সমর্থ হয়েছিলেন যা হাইপেশিয়া-হত্যায় ইন্ধন যুগিয়েছিলো। সিরিলকে পরবর্তীতে ধর্মীয় অধিকার বলে সেইন্ট বা সন্ত হিসেবে অভিসিক্ত করা হয়। ইতিহাসের জঘন্যতম অপরাধের উপযুক্ত ধর্মীয় ‘শাস্তি’ই বটে!

যা হোক, অরিস্টিস এই নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড সম্বন্ধে রিপোর্ট করেন এবং রোমকে এর তদন্ত পরিচালনা করতে অনুরোধ করেন। তারপর তিনি তার কর্মস্থল থেকে অব্যহতি নিয়ে আলেকজান্দ্রিয়া থেকে চিরতরে বিদায় নেন। আর ওদিকে তদন্তকাজ পদে পদে ‘পর্যাপ্ত সাক্ষীর অভাবে’ বাধাপ্রাপ্ত হয়, আর শেষপর্যন্ত সিরিল জল ঘোলা করতে এও জনসমক্ষে প্রচার করতে শুরু করেন যে, হাইপেশিয়া নাকি জীবিত আছেন এবং এথেন্সে বহাল তবিয়তে বাস করছেন।

মূলত এভাবেই পতন ঘটে ইতিহাসের এক জ্বলন্ত নক্ষত্রের।জানা যায় হাইপেশিয়ার পর আলেকজান্দ্রিয়ায় আর কোনো বিখ্যাত গণিতবিদের জন্ম হয় নাই।

প্রকৃতি হয়তো এভাবেই সকল কর্মের হিসেব রাখে!

 

তথ্যসুত্রঃ

 

 

১.Women in Philosophical Dictionary, Voltaire, Vol. 10, Dumon Paris, 1764 (reprint 1901)

 

২. মহাজাগতিক আলোয় ফিরে দেখা, আসিফ, সময় প্রকাশন, ২০০৩।

 

৩.Women and Technology in Ancient Alexandria : Maria and Hypatia, Margaret Alic, Women’s Studies Int. Quart., Vol.4, No. 3, 1981, pp 305-312.

 

৪.Women, Technology and Innovation, ed. Joan Rothschild, New York : Pergamon, 1982.

 

৫. Hypatia, Joseph McCabe, Critic, Vol 43, pp 267-272.

 

৬. Hypatia’s Heritage, Margaret Alic, Boston, 1986.

 

৭. Women of Mathematics, R. Jacobacci, Arithmetic Teacher, Vol. 17.4, 1970, pp 316-324

 

৮. আজি হতে শতবর্ষ আগে, অভিজিৎ রায়, (মুক্তমনা) সাপ্তাহিক যায় যায় দিন, ১৫ মার্চ, ২০০৫

 

৯.বিজ্ঞানবর্তিকা-ফিচারঃবিদেশী বিজ্ঞানী।

 



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top