দ্বিতীয় দফায় নির্বাচিত হলেন ১৭ অক্টোবর।

সর্বকনিষ্ঠ নারী প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন।

সুরাইয়া সম্পা, ইডেন মহিলা কলেজ। | প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০২:০৪; আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২০ ০২:০৯

ছবিঃ ইন্টারনেট
পৃথিবীর সবচেয়ে কনিষ্ঠ নারী প্রধানমন্ত্রী Jacinda Ardern। মাত্র ৪০ বছর বয়সে ১৭ অক্টোবর ২০২০ দ্বিতীয় বারের মতো ৪৮ লাক্ষ মানুষের শান্তিপ্রিয় স্বর্গের দেশের নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। করোনা কালীন সময়ে দেশের জন্য কতটুকু কাজ তিনি করেছেন তা প্রমাণ করে বিশ্বের প্রথম করোনামুক্ত দেশ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের আত্মপ্রকাশ।
 
জন্মগ্রহন করেছেন ২৬ জুলাই ১৯৮০ সালে হ্যামিল্টনে। বেড়ে ওঠা মরিনসভিল এবং মুরুপাড়ায়। এখানে একটি সরকারী স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। 2001 সালে ওয়াইকাটো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করার পরে, আর্ডারন প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্কের অফিসে একজন গবেষক হিসাবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি লন্ডনে মন্ত্রিপরিষদ অফিসের কাজ করপন এবং আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক যুব ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হন ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে আরডার্ন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যখন নয় বছর পর শ্রম ক্ষমতা হারিয়েছিলো। পরে তিনি ফেব্রুয়ারী 2017 এর একটি উপনির্বাচনে মাউন্ট আলবার্ট ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নির্বাচিত হন।
 
অ্যান্টে কিং-এর পদত্যাগের পরে ২০১৩ সালের ১ মার্চ আর্দার্ন সর্বসম্মতভাবে লেবার পার্টির ডেপুটি লিডার নির্বাচিত হন আরডার্ন। মাত্র পাঁচ মাস পরে, নির্বাচনের কারণে, ল্যাবারের নেতা অ্যান্ড্রু লিটল দলের পক্ষে ঐতিহাসিকভাবে কম মতামত ভোটার ফলাফলের পরে পদত্যাগ করেছিলেন, আরডার্ন তার জায়গায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২৩ শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে ন্যাশনাল পার্টির ৫৬ আসনে ৪৬ টি আসন জিতে তার দলকে ১৪ টি আসন অর্জন করতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আলোচনার একটি সময় পরে, নিউজিল্যান্ড প্রথম গ্রিন পার্টি দ্বারা সমর্থিত লেবারকে দিয়ে সংখ্যালঘু জোট সরকারে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আর্ডার্নকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নেওয়া হয়। তিনি ২৬অক্টোবর ২০১৭ এ গভর্নর-জেনারেল দ্বারা শপথ গ্রহণ করেন। এবং মাত্র 37 বছর বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী মহিলা সরকারপ্রধান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।গত ১৭ অক্টোবর ২০২০, ১২০ টি ভোটের ৬৪ টি পার্লামেন্ট মেম্বার নিয়ে লেবার পার্টিকে বিজয়ী করেছেন আরডার্ন।তিনি শুধু নিউজিল্যান্ডের তরুণদের মন জয় করেন নি,বিশ্বের লাখো লাখো তরুণদের আদর্শ রাজনীতিবিদ ও পথপ্রদর্শক।
 
আরডার্ন নিজেকে একজন সামাজিক গণতান্ত্রিক এবং প্রগতিশীল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। ষষ্ঠ শ্রম সরকার বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের আবাসন সংকট, শিশু দারিদ্র্য এবং সামাজিক বৈষম্যের দিকে মনোনিবেশ করেছে। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে, তিনি ক্রাইস্টচর্চ মসজিদে গুলি চালানোর পরে দেশটির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, দ্রুত প্রতিক্রিয়া হিসাবে কঠোর বন্দুক আইন প্রবর্তন করেছেন,সাদা ভলকানো বিস্ফোরণ, এবং ২০২০ জুড়ে তিনি COVID-19 মহামারীটিতে সুষ্ঠু ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। নিউজিল্যান্ডে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজারের কম,মৃত্যু সংখ্যা ২৫ জন যা পুরো পৃথিবীতে সবচেয়ে কম সংখ্যা।
 
২০২০ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে এবং নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। অকল্যান্ডে ভাষণে বলেন ৫০ বছরের ভিতরে তার দল এভাবে বিজয় লাভ করেছে প্রথমবারের মতো,যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে জ্ঞানী ব্যক্তিদের ভাষায় লেবার পার্টি শুধুমাত্র jacinda জনপ্রিয়তার উপর 'বিপদজনক ঝুঁকি ' নিয়ে নির্বাচন জিতেছে। তবে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করছেন ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে শিশু দারিদ্রতা মুক্ত করবেন,এছাড়াও ক্ষুদ্র উদ্যেগক্তাদের সাহায্য করবেন।তার বিপক্ষে ছিলেন ন্যাশনাল পার্টির পঞ্চাশের ঊর্ধ্ব মহিলা প্রাক্তন পুলিশ মিনিস্টার Collins Crushed.যিনি ৩ বার car crushed এর জন্য crushed নামে পরিচিত। তার পার্টি মাত্র ৩৫ টি আসন লাভ করেছে।অপরদিকে তৃতীয় আসনে আছে দ্য গ্রিন পার্টি যারা মাত্র ৮% নিয়ে জিতেছেন।
 
আরডার্ন ব্রিটিশ ভোগের সেপ্টেম্বর 2019 ইস্যুর প্রচ্ছদে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্বাচিত পনেরো মহিলার একজন ছিলেন, অতিথির সম্পাদক মেঘান, সাসেক্সের ডাচেসের দ্বারা ফোর্বস ম্যাগাজিন তাকে ২০১৯ সালে বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাবান মহিলাদের মধ্যে ৩৮ তম স্থানে রেখেছিল। তিনি 2019 টাইম 100 তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং টাইমস এর 2019 বছরের সেরা ব্যক্তির জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত ম্যাগাজিনটি পরে ভুলভাবে অনুমান করেছিল যে ক্রিস্টচর্চ মসজিদ হামলা চালানোর জন্য তার তালিকাভুক্ত ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনি 2019 সালের নোবেল শান্তি পুরষ্কার জিততে পারেন। 2020 সালে, তিনি প্রতীক দ্বারা COVID-19 যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিন্তাবিদ হিসাবে তালিকাভুক্ত হন।
 
নিউজিল্যান্ডে পৃথিবীর ভিতরে এমন একটি দেশ যেখানে ১৮৯৩ সালে প্রথম মহিলাদের ভোটের অধিকার দেয়া হয়।করোনা কালীন সময়ের দক্ষতার পরিচয় আরডার্নেকে বিশ্বের সকল রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারন মানুষ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখে।দ্বিতীয়বারের জয় লাভ লিবার্ল পার্টি ন শুধু,খুশী হয়েছে নিউজিল্যান্ড বাসী,বিশ্বসাসীও।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top