সমাজ জাগরণে সাংস্কৃতিক অঙ্গন একটি বড় ভূমিকা রাখে

পড়াশোনার সাথে সংস্কৃতিতেও পারদর্শী প্রিয়াঙ্কা।

সাক্ষাতকারঃ ফারজানা নিপা, ঢাবি। | প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২০ ২১:০০; আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২০ ১৯:৪৩

প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস পিঙ্কি
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ সেশনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাস পিঙ্কি। গৌরনদী উপজেলায় বেড়ে ওঠা মিষ্টি মেয়ে পিঙ্কি পড়াশুনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও দাঁপিয়ে বেড়িয়েছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয় মুখ এই মিষ্টি মেয়ে। ভ্রমণপিপাসু পিঙ্কি অবসর সময়ে বই পড়তেই বেশি পছন্দ করেন। আজকে কথা বলব তার এই সাংস্কৃতিক জগৎএ পথচলার সময়টুকুতে প্রাপ্তি,সুবিধা, অসুবিধা নিয়ে।
 
নারীকথনঃ লক ডাউনের সময়গুলো কেমন করে কেটেছে?
প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসঃ লক ডাউনে গ্রামের লোকজনকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রেখেছিলাম। কয়েকটি টিভি চ্যানেলে উপস্থাপনা করেছি বাড়ি থেকেই। অনলাইনে কিছু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছি। টক শো করেছি। আর সব থেকে বড় যে কাজ, এই লক ডাউনে বেশ কিছু বই পড়ার সুযোগ হয়েছে।
 
নারীকথনঃ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পথচলা কখন থেকে?
প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসঃ খুব ছোট থেকেই। আমার পরিবারের সবাই মূলত সৃংস্কৃতিমনা। মা ভালো গান গাইত। বাবা, দাদুকে স্টেজ পারফর্ম করতে দেখেই বড় হওয়া। আমার বয়স যখন ৪, আমার বাবা তখন আঙ্গুল ধরে হারমোনিয়ামে সা রে গা মা শিখাত। এর পর থেকেই মূলত সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পথ চলা শুরু।
 
নারীকথনঃ এতদূর আসার পিছনে কার অবদান বেশি?
প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসঃ আমায় সবাই সাহায্য করেছে। তবে এই সব কিছুর মধ্য থেকে যিনি না থাকলে আজকের আমি হতাম না, তিনি আমার মা।
 
নারীকথনঃ আপনি তো ক্যাম্পাসে থাকাকালীন সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে বেশ সরব ছিলেন। এখানে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন কি না? আর কখনো কি মনে হয়েছে আর এই অঙ্গনে কাজ করবেন না?
প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসঃ সেভাবে কোন প্রতিবন্ধকতা ফেইস করিনি। এই অঙ্গনে কাজ করব না এমনটা মোটেই মনে হয় নি। বরং আমি আবার কখনো সুযোগ পেলে সাংস্কৃতিক অঙ্গনেই ফিরতে চাইব।
 
নারীকথনঃ সাংস্কৃতিক অঙ্গন কিংবা পড়ালেখায় ছেলে বন্ধুদের কতটুকু সাহায্য পেয়েছেন কিংবা কোনো কটুক্তি স্বীকার হয়েছেন কি না?
প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসঃ সব সময়ই ছেলে বন্ধুদের খুব সাহায্য পেয়েছি। আবৃত্তি, গান বা থিয়েটার করতে গিয়ে আমার কখনোই মনে হয়নি তারা কেউ আলাদা, একই পরিবারের মনে হয়েছে। তবে বাইরের অনেকের কাছ থেকে কটুক্তিও শুনেছি। সেক্ষেত্রে আমি নিজেকে কখনোই দুর্বল ভাবিনি, বরং উপেক্ষা করেই এগিয়ে গেছি।
 
নারীকথনঃ নারীবান্ধব সমাজ গড়তে কি কি পরিবর্তন করা দরকার বলে আপনার দৃষ্টিতে মনে হয়?
প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসঃ প্রথমেই বলব দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর কথা। কারন দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেলে নারী শব্দটি উঠে মানুষ শব্দের প্রতিষ্ঠা পাবে। আর এটা শুরু করতে হবে নিজ পরিবার থেকেই। তাছাড়া শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যার প্রসারণ হলেই চলবে না, মানবিক গুণাবলি তৈরি করতে হবে প্রতিটি মানুষের মাঝে। তবেই সমাজ একটি সুষ্ঠ মানুষবান্ধব পরিবেশ পাবে।
 
নারীকথনঃ ভবিষ্যৎতে নারীদের নিয়ে কাজ করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?
প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসঃ অবশ্যই আছে। আমি অলরেডি একটি মানবাধিকার সংস্থায় নারী অধিকার নিয়ে কাজ করছি। এছাড়াও, দালিত সম্প্রদায়ের নারীদের ইমপাওরমেন্ট নিয়ে বেশ কিছু কাজে অংশগ্রহণ করেছি।
 
নারীকথনঃ আপনি তো ক্যাম্পাসে অনেক প্রোগ্রাম করেছেন। আপনার কি মনে হয় সাংস্কৃতিক অঙ্গন সমাজ পরিবর্তনে কি কোনো ভূমিকা রাখতে পারে?
প্রিয়াঙ্কা বিশ্বাসঃ সমাজ জাগরণে সাংস্কৃতিক অঙ্গন একটি বড় ভূমিকা রাখে। সাংস্কৃতিক অঙ্গন এমন একটি যায়গা যেখানে প্রবেশ করলে মনে হবে একটি মুক্ত পৃথিবীতে প্রবেশ করেছেন। আমাদের চারপাশের ঘটনা থেকে দেখা যায়, যারা বিশৃঙ্খল জীবন কাটাচ্ছে তাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করে। এখান থেকেই শুরু হয় মানবিক অবক্ষয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশ কিন্তু এই অবক্ষয় গুলি ওষুধের মত সারিয়ে তুলতে জানে। মানুষ যখন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ পাবে তার মধ্যাকার কুপ্রবৃত্তি আস্তে আস্তে বিলীন হবে। শুধুমাত্র গান, বাজনাই মূখ্য নয় বরং সাংস্কৃতিক পরিবেশ হতে পারে একটি পারিবারিক পরিবেশ। সেখানে পর্যাপ্ত বিনোদন এবং প্রত্যেকের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করাটাও একটি বড় ব্যাপার।


বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top