কেবিন ক্রু হতে কি কি লাগবে?

ফারজানা নিপা, ঢাবি। | প্রকাশিত: ৯ নভেম্বর ২০২০ ১৮:৫৯; আপডেট: ৯ নভেম্বর ২০২০ ১৯:০০

ছবিঃ ইন্টারনেট

একটা সময় মনে করত নারীরা শুধু ঘর গৃহস্থালির কাজেই দক্ষ। তারা অন্য কোনো কাজ করতে পারে না। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে এই ভ্রান্ত ধারণাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নারীরা দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে সব কর্মস্থলে। নিজেদের যোগ্যতা দিয়ে জায়গা পাকাপোক্ত করে নিচ্ছে কর্মস্থলে। যারা আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে,পাখির মতো আকাশে উড়ে বেড়াতে চায়, সারা বিশ্বকে খুব কাছ থেকে দেখতে চায় তাদের জন্য কেবিন ক্রু চাকরিটা অনেকটা সোনার হরিণের মত। কেবল প্রয়োজন- ইচ্ছা,আত্মবিশ্বাস,ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা। দিন দিন ক্যারিয়ার হিসেবে নারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ক্রু। সৌন্দর্য সচেতন এবং মননে আধুনিক নারীরা খুব সহজেই এটিকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

এয়ার হোস্টেস বা কেবিন ক্রু, এই পেশায় যা আছে- অ্যাডভেঞ্চার, গ্ল্যামার আর উচ্চ আয়ের সুযোগ। তবে কিছু প্রশিক্ষণ কোর্স করে বাংলাদেশ বিমান ও বেসরকারিখাতে কর্মরত এযারলাইন্সেই চাকরির সুযোগ নেওয়া যায়। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অন্যান্য এয়ারলাইন্সে সাফল্যের এ ক্যারিয়ারে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা। শুধু চাই আত্মবিশ্বাস ও পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ। কেবিন ক্রু হতে চাইলে নিম্নোক্ত জিনিসগুলো মাথায় রাখতে হবে-

১. সাঁতার জানতে হবেঃ যেকোন দূর্ঘটনার জন্য কিংবা অন্য কোন বিশেষ পরিস্থিতিতে পানিতে এরোপ্লেন ল্যান্ড করতে পারে। সেসব পরিস্থিতির জন্য সবসময় কেবিন ক্রু এবং এয়ার হোস্টেসদের তৈরি থাকতে হয়। Ryanair এ চাকরির জন্য কমপক্ষে ৬৫ ফিট (২০মিটার) সাঁতারে অংশ নিতে হবে। এবং British Airways এর জন্য তা কমপক্ষে ১৬৪ ফিট (৫০মিটার)।

২. চুল ছোট রাখতে হবেঃ এয়ারলাইনগুলোতে চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে শর্ত হিসেবে চুল ছোট (ববকাট) করে রাখতে বলা হয়। যেন বড় চুলের জন্য কাজে অসুবিধা না হয়।

৩. গায়ে কোনো ট্যাটু আঁকা যাবে নাঃ শরীরের দৃশ্যমান স্থানে ট্যাটু থাকা যাবে না এবং নাক-কান ফোঁড়ানো যাবে না।

৪. জঙ্গলে টিকে থাকার মত ক্ষমতা থাকতে হবেঃ যেকোন ইমার্জেন্সিতে প্লেন বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত এরকম দুর্গম এলাকায় ল্যান্ড করানো হতে পারে। এজন্য জঙ্গলে টিকে থাকতে জানতে হবে। এর জন্য পর্যাপ্ত ট্রেনিং নিতে হবে।

৫. যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবেঃ অনেক সময়ই যাত্রীদের লাগেজ জায়গামত রাখতে সহযোগিতা করতে হবে। লাগেজ বেশ ভারিই হয় সাধারণত। এজন্য শারিরিক সক্ষমতা থাকাটা অত্যন্ত জরুরি।

৬. হাতের নখ ছোট রাখতে হবেঃ ফ্যাশনেবল কেউ নখ লম্বা করে রাখতে চাইলে স্টুয়ার্ডেস হতে পারছেন না।

৮. নির্দিষ্ট উচ্চতা থাকতে হবেঃ সাধারণত নারী স্টাফদের জন্য গড় উচ্চতা ৫’২” (১৬০ সে,মি) থেকে ৬’২” (১৮৮ সে,মি)। উচ্চতা অনেক সময়ই গুরত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

৯. বডি অনুযায়ী ওজনঃ অধিকাংশ এয়ারলাইন্স স্টুয়ার্ডেসদের জন্য নিঁখুত বডি শেপ প্রয়োজন পরে না। তাদের শুধু উচ্চতা ও ওজনের অনুপাতটা ঠিক থাকলেই চল। দেহের ওজন উচ্চতার তুলনায় খুব বেশি বা কম হলে তা কাজ করার জন্য অসুবিধাজনক হয়ে দাঁড়ায় ।

১০. কুংফু প্রশিক্ষণ নিতে হবেঃ এয়ার হোস্টেস, কেবিন ক্রু হিসেবে কাজ করতে গিয়ে যে কেউ পরতে পারেন বিভিন্ন বিরক্তিকর, অসহ্য, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে। কিংবা কারো থেকে টিজের শিকারও হতে পারেন। কিংবা কোন সন্ত্রাসী হামলার মুখেও পরতে পারে। তাই কুংফু প্রশিক্ষণ নেয়াটা জরুরী। এজন্যই হংকং এয়ারলাইন্স তাদের স্টুয়ার্ডেসদের জন্য কুংফু ট্রেনিং ক্লাসের ব্যবস্থা করে থাকে।



বিষয়:


আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top